পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে আধা বেলা অবরোধ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টায় এ অবরোধ শুরু হয়। ফলে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে আসা সাজেক ও খাগড়াছড়িগামী পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন। দুপুর ১২টায় এ অবরোধ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
দলবদ্ধ ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গতকাল বুধবার এ অবরোধের ডাক দেয় ‘জুম্ম ছাত্র–জনতা’। অবরোধের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অবরোধের সমর্থনে জেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা। খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের চেঙ্গী সেতু এলাকা, স্বনির্ভর এলাকা, খাগড়াছড়ি–পানছড়ি সড়কের পেরাছড়া, টেকনিক্যাল স্কুল; খাগড়াছড়ি–দীঘিনালা সড়কের চার মাইল, ৯ মাইলসহ বিভিন্ন সড়কে অবরোধকারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এসব সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিছু জায়গায় পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি সরিয়েছে। এসব সড়কে সীমিত পরিসরে অটোরিকশাসহ ছোট কিছু যান চলছে। আজ খাগড়াছড়ির শহরে সাপ্তাহিক বাজারের দিন হলেও পাহাড়ি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বাজারে দেখা যায়নি।
জেলার নেন্সী বাজার দীঘিনালায় অপেক্ষারত অমর জ্যোতি চাকমা বলেন, তিনি দীঘিনালা সদর থেকে আরও ১৫ কিলোমিটার দূরে মেরুং এলাকায় যাবেন।
অবরোধের কারণে জেলা শহরে আটকা পড়েছেন পর্যটকেরা। একদল তরুণকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁরা বলেন, অবরোধের বিষয়টি তাঁরা আগে থেকে জানতেন না। ঢাকা থেকে আসার পথে কুমিল্লায় যাত্রাবিরতির সময় তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। আট বন্ধু মিলে এক সপ্তাহ আগেই সাজেকে হোটেল বুকিং দিয়েছিলেন। এখন আর যেতে পারছেন না।
অবরোধের ডাক দেওয়া অন্যতম শিক্ষার্থী উক্যেনু মারমা বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত অবরোধ চলছে। দু-এক জায়গায় পুলিশ সড়কে দেওয়া আগুন নিভিয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি শহরে মহাসমাবেশ হবে।’
ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘তাঁর মেয়ে সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যেত আর রাত নয়টায় বাসায় ফিরত। তবে মঙ্গলবার নয়টার দিকে না ফেরায় তাঁরা ওই শিক্ষকের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন অন্য দিনের সময়সূচি অনুযায়ী প্রাইভেট ছুটি হয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আশপাশের এলাকায় খুঁজতে থাকেন তাঁরা। একপর্যায়ের রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে একটি ফসলের খেতে পাওয়া যায়। পরে তাঁর তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, ‘রাস্তায় দু-একটি টায়ার পোড়ানো হয়েছে। এর বাইরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী বাস পুলিশি পাহারায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাত নটায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাতে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।









