নদীবিধৌত গাইবান্ধা জেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ঘাঘট-তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রসহ আরও বেশ কয়েকটি নদী-নদী। সম্প্রতি এসব নদীর তীরে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বাপ-দাদার বসতভিটা ও ফসলি জমি। ভাঙনের শিকার মানুষেরা সহায় সম্বল হারিয়ে চোখের জলে নির্ঘুম রাত পোহাচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষির ভিটা নামক স্থানের ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, নদীভাঙনের ভয়াবহতার দৃশ্য।
যেন চোখের নিমিষে বিলীন হচ্ছে সবকিছু। এসময় ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নির্বাক চোখে তাকিয়ে, আবার কেউবা কাঁছিলেন অঝোড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর বুকে জেগে উঠেছে প্রায় ১৬৫ বালুচর। এসব চরাঞ্চলে কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। এছাড়াও নদীর তীরবর্তীতেও একই পরিমাণ মানুষের স্থায়ী নিবাস। প্রত্যেক বছরের বর্ষার আগে ও পরে শুরু হয় অব্যাহত নদী ভাঙন। রাক্ষুসি নদীর এই ভাঙনে ইতঃপূর্বে মানুষ হারিয়ে তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মসজিদ-মন্দির। ভাঙনের শিকার লক্ষাধিক পরিবারে ঠাঁই নিয়েছে বিভিন্ন বাঁধ, আশ্রয়ণ কেন্দ্র ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে। অন্যত্র আশ্রিত মানুষেরা এখন দুর্বিষহ দিনাতিপাত করছে সেখানে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জের তিস্তা, সাদুল্লাপুরের ঘাঘট, সদর-ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর বেশ কিছু স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ওইসব এলাকায় নদী ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি ও সহস্রাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও নদীর পেটে চলে গেছে কবরস্থান, স্কুল-মাদরাসা, মসজিদ ও মন্দির। নদীরপাড় ও চরাঞ্চলের মানুষেরা এসব হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের শতশত পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে চলছেন। বৈরী বাতাসে পানির ঢেউয়ে যে কোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি ভাঙনের আশঙ্কা করছে তারা। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নির্ঘুম রাত পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক মাস ধরে গাইবান্ধা জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠানামার সাথেই শুরু হয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা।
নদীপাড়ের বাসিন্দা নিল মিয়া জানান, অনেক আগে তার বাড়ি নদীর পেটে চলে গেছে। সেই সঙ্গে রক্ষা পায়নি আবাদি জমিও। এখন অন্যত্র ঠাঁই নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করে চলছেন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি হ্রাস- বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা চেষ্টা করছি।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ইতোমধ্যে নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। যাতে করে মানুষেরা দুর্ভোগে না পড়ে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গ কোথাও কোথাও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/ এজে









