রাজধানীর রামপুরায় ঝাড়ফুঁকের (তান্ত্রিক চিকিৎসা) নামে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী প্রতারকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম রামপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর রাতে সিরাজুল ইসলাম (পিতা মৃত আতর আলী শেখ, গ্রাম: গফুর মাতুব্বর পাড়া, থানা: গোয়ালন্দ, জেলা: রাজবাড়ী; বর্তমান ঠিকানা: ১৫/৬/সি, পশ্চিম হাজীপাড়া, হাতিরঝিল, ঢাকা) তার প্রতিবেশীর মেয়ে আফসা আক্তার মিথির ফোন পান। মিথি জানান, তার মেয়ে জারিন তাসনিম সিনইয়া নাকি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত পূর্ব রামপুরা জামতলা কমিশনারের বাড়ির কাছে যেতে বলেন।
সিরাজুল ইসলাম সেখানে গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী শরীফা সুলতানা, প্রতিবেশী মোর্শেদা বেগম (হাফসার মা) ও হাফসা নামের এক তরুণী উপস্থিত আছেন। তাদের সঙ্গে এক মহিলা তান্ত্রিকও ছিলেন, যিনি নিজেকে “কবিরাজ আপা” বলে পরিচয় দেন। ওই মহিলা নিজের প্রকৃত নাম-পরিচয় না জানালেও তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর ০১৬০২২৮০২১৫ বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, “কবিরাজ আপা” হাতে একটি ছোট লাঠি নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকেন, ‘তুই কোন জায়গার জিন? কী নিয়ে যাবি?’ এরপর তিনি জারিনের হাতে থাকা স্বর্ণের আংটি ও কানের দুল খুলে দিতে বলেন। সরল বিশ্বাসে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গয়না কবিরাজের হাতে তুলে দেন। তিনি গয়নাগুলো একটি কৌটায় রেখে বলেন, পরে এগুলো ফেরত দেওয়া হবে।
তবে দুদিন পর গয়না ফেরত চাইলে ওই মহিলা জানান, গয়না ফেরত দিলে মেয়ের মৃত্যু হতে পারে এবং এগুলো “আজমির শরীফে পাঠাতে হবে।” ভয়ে গয়না আর ফেরত চাননি তারা। পরে ৭ অক্টোবর পুনরায় গয়না ফেরত চাইলে, কবিরাজ জানান— “গয়না নিতে হলে ২১ হাজার টাকা দিতে হবে, নইলে গয়না ফেরত পাওয়া যাবে না।” একই সঙ্গে তিনি তিনটি তাবিজ ধরিয়ে দেন, যা ভুক্তভোগী পরিবার পরবর্তীতে ফেরত পাঠিয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন,“আমরা সরল বিশ্বাসে মেয়ের ভালো হওয়ার আশায় ওই মহিলার কথায় গয়না দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পারি, তিনি প্রতারক। এখন থানায় অভিযোগ দিয়েছি— যেন তিনি শাস্তি পান এবং আমাদের গয়না উদ্ধার হয়।”
রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তের সন্ধান যাচাই করা হচ্ছে, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন ভুয়া তান্ত্রিক ও কবিরাজরা ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ ও “জিন তাড়ানোর” নামে সরল বিশ্বাসী মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যেন এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।









