নির্বাচন কমিশন মোট ১১৫টি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে। স্থগিত রাখা হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকও। তবে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রস্তাবিত শাপলা প্রতীক সেই তালিকায় স্থান পায়নি।
‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এর সংশোধনী এনে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলাকে তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে।
গতকাল ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, এনসিপির শাপলা প্রতীক পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার ঠিক একদিন পর আজ বুধবার দলটির পক্ষ থেকে ই–মেইলের মাধ্যমে আবারও আবেদন জানানো হয়। এবারের আবেদনে শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলার যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দের অনুরোধ করা হয়।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে ইসির কাছে আবেদন করল এনসিপি। এর আগে ২২ জুন দলটি নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছিল। তখন শাপলা, কলম ও মোবাইল প্রতীক চাওয়া হয়েছিল। পরে ৩ আগস্ট দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আরেকটি আবেদনে প্রতীক পছন্দের তালিকা পরিবর্তন করে শাপলা, সাদা শাপলা ও লাল শাপলা অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেন।
আজকের ই–মেইল আবেদনে নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষর করেন। সেখানে বলা হয়, শাপলাকে প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত কোনো আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়নি। বরং এটি এনসিপির প্রতি বিরূপ মনোভাব ও স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ। ইসির এ ধরনের অবস্থান তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আগ্রহকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া জনপরিসরে আলোচনায় রয়েছে, একটি বড় রাজনৈতিক দল শাপলা প্রতীক বরাদ্দ ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
আবেদনে নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, ইসি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন করে এনসিপির জন্য শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলার মধ্যে যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে। তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসিকে আগের একরোখা মনোভাব থেকে সরে এসে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে ইসি সচিবের বক্তব্যের পর এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি লিখেছেন, যেহেতু কোনো আইনি বাধা নেই, তাই এনসিপির প্রতীক শাপলাই হতে হবে। অন্য কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে নির্বাচন কীভাবে হয় এবং কে ক্ষমতায় গিয়ে কীভাবে সুবিধা নেয়, সেটাও তারা দেখে নেবেন।









