শুক্রবার | ১০ জুলাই, ২০২৬ | ২৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

বন্যা ও জলাবদ্ধতায় স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ে, যে বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখবেন

স্টাফ রিপোর্টার

বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ ও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এই সময়ে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসচেতনতা মেনে চলা আবশ্যক।

বন্যার সময় সবচেয়ে বড় সংকট হয় বিশুদ্ধ পানির। দূষিত পানি পেটের পীড়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো রোগের প্রধান কারণ। পানি অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট তীব্রভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। পানি ফোটানোর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি ১০ লিটার পানিতে একটি ওয়াটার পিউরিফায়ার ট্যাবলেট (যেমন: হ্যালোজেন বা ফিটকিরি) মিশিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ব্যবহার করুন।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর টিউবওয়েলের চারপাশ ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে, ভেতরের নোংরা পানি কয়েক বালতি পাম্প করে ফেলে দিয়ে তারপর ব্যবহার করুন।

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। তাই বাসি বা বন্যার পানিতে ভিজে যাওয়া খাবার কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না।

খাবার সব সময় পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে রাখুন, যেন মাছি বা অন্য কোনো পোকা বসতে না পারে।

শাক-সবজি ও মাছ-মাংস ভালো করে ধুয়ে, পুরোপুরি সেদ্ধ করে রান্না করুন।

খাবার খাওয়ার আগে, তৈরি করার সময় এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

দীর্ঘ সময় বন্যার নোংরা পানিতে ভিজে থাকলে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। পানি থেকে ওঠার পর শরীর পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। আঙুলের ফাঁকে চুলকানি হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

বন্যার সময় সাপ এবং অন্যান্য বিষাক্ত পোকামাকড় শুকনো জায়গার সন্ধানে মানুষের ঘরে বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসে। ঘরের মেঝেতে না ঘুমিয়ে চৌকি বা উঁচুতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করুন।

সাপে কাটলে আক্রান্ত স্থানটি বেশি নাড়াচাড়া না করে সোজা রাখুন। বেঁধে দিলে তা যেন খুব শক্ত না হয়। কোনো ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান (কারণ সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের প্রতিষোধক বা অ্যান্টি-ভেনম বিনা মূল্যে পাওয়া যায়)।

ঘরে বা ব্যাগে সব সময় কিছু জরুরি ওষুধ যেমন—খাওয়ার স্যালাইন, প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন (অ্যালার্জির জন্য) এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখুন। তীব্র ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, তাই শুরুতেই ঘন ঘন ওরস্যালাইন খাওয়াতে হবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD