দুবাইয়ে গ্রেফতার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। আমাদের দূতাবাস সেসব ইউএই সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এটা হচ্ছে সর্বশেষ অবস্থা। ইউএই সরকারের তরফ থেকে আমাদেরকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। আশা করি খুব শিগগিরই জানানো হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে গ্রেফতারের খবর দুবাই থেকে মেইলে জানানোর পর, তার ত্রিশ দিনের মধ্যে তারা কাগজপত্র পাঠানোর জন্য বলেছিল। কিন্তু তিন দিনের মধ্যেই তারা সেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বেনজীর আহমেদ অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন বলে যে আলোচনা রয়েছে, সেটি দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এখনো ইউএই সরকারের রিপ্লাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি সে ফেডারেল পুলিশের কাছেই আছে, তাদের হেফাজতে আছে। অন্য কোনো সংবাদ আমরা জানি না।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইজিপি এবং র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার খবর গত ১৪ জুন প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন জাতীয় সংসদে বিষয়টি জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
হাদির হত্যার গ্রেফতারদেরও শিগগিরই ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতে গ্রেফতার তিনজনকে ফেরত আনার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তাদেরকে ফেরত পাওয়ার জন্য চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ওয়ারেন্ট তখনই পাঠিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছি, আশা করি তাদেরকে আমরা ফেরত পাব এবং তদন্ত সম্পন্ন করে আমরা যথাযথভাবে চার্জশিট প্রদান করতে পারব।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হাদি মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে থাকছেন এবং তাদের দুজন সহায়তাকারীকে (ভারতীয়) গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে ভারত সেসময় তাদের গ্রেফতারের কথা শিকার করেনি।
পরে মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গত ৮ মার্চ গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে ভারতের পুলিশ। এর সপ্তাহখানেকের মাথায় তাদেরকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেফতারের তথ্য দেয় দেশটির পুলিশ। এরপর থেকে এখনও তারা দেশটির কারাগারে রয়েছেন।
পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক অব্যাহত পুশ ইনের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক আছে। আমাদের বিজিবি খুব প্রশংসনীয় কাজ করছে। প্রত্যেকটা বর্ডারে যেখানে যেখানে পুশ ইনের চেষ্টা হচ্ছে সেখানে তারা বাধা দিচ্ছে।
একসইসঙ্গে সেখানে কোন বাংলাদেশি নাগরিক থাকলে সেই তালিকা দিতে কূটনৈতিকভাবে ভারতকে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের ন্যাশনালিটি ভেরিফাই করবো। ন্যাশনালিটি ভেরিফাই করার পরে ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনিভাবে আমরা তাদেরকে ফেরত নিতে পারি। সেরকম কিছু ভারতীয় নাগরিক আমাদের এখানে পুশইন হয়ে এসছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে যথাযথ জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বর্ডার ইস্যুটা দুই দেশের মধ্যে সবসময় একই রকম অবস্থায় থাকে তেমন নয়। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন পরবর্তী ওখানে স্টেট গভর্নমেন্ট আসীন হয়েছে। তাদের কিছু হয়তো নির্বাচনি এজেন্ডা ছিল। সেই হিসাবে হয়ত তারা এটা প্রদর্শন করতে পারে যে, বিদেশি নাগরিক থাকলে করবে ফেরত পাঠাবে। বাট এই প্রক্রিয়াটা যথাযথ নয়।
তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ১০ হাজারের বেশি জনকে ইতোমধ্যে তারা পুশ ব্যাক করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন পাল্টা প্রশ্ন করেন, এ ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে কি পরিসংখ্যান আছে? কতজন পুশ ইন হয়েছে?
তিনি বলেন, আমাদের কাছেও এই যে সংখ্যা উল্লেখ করছেন, সেরকম কোনো সংখ্যা নেই। আমরা একজনকেও পুশ ইন হতে দেইনি। আমাদের বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে।









