মাগুরা জেলা কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সদর উপজেলার ভায়না মোড় এলাকায় রোববার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে হোটেল, মুদিদোকানসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান তদারকি করা হয়।
অভিযানে মেসার্স সোনার বাংলা হোটেলের রান্নাঘরে ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া যায়। রান্নাঘরের মেঝে স্যাতসেঁতে ও নোংরা ছিল, কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছিলেন না। খাবার খোলা অবস্থায় নোংরা মেঝেতে রাখা হচ্ছিল। ফ্রিজে আগের দিনের বাসি গ্রিল ও রক্তচর্বিযুক্ত মুরগি রাখা ছিল, যা পুনরায় গরম করে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। মিষ্টির গামলায় মাছি, তেলাপোকার বাচ্চাসহ নানা পোকামাকড়ও পাওয়া যায়।
এছাড়া ২০ দিন ধরে হালনাগাদ করা হয়নি মূল্যতালিকা। খাবার সংরক্ষণের জন্য নিষিদ্ধ খবরের কাগজ ও ছাপা কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছিল। আগেও ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হোটেল কর্তৃপক্ষকে সচেতন করার জন্য মিটিং করেছিল, তবে কোনো উন্নতি হয়নি।
এ কারণে অস্বাস্থ্যকরভাবে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে হোটেলের মালিক মো. উজির বিশ্বাসকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে নষ্ট খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পাত্রে রাখা সস ধ্বংস করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
অভিযান শেষে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
ভোক্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।









