ঢাকায় পহেলা মে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে লাখো শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির প্রত্যাশা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেবেন।
তিনি বলেন, এবারের মে দিবস একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম মজুরির জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা না হওয়া, আউটসোর্সিং নিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়া এবং শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সরকারি পদ বিলুপ্ত করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার ফলে শ্রমের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি পাটসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় শিল্পের পরিবর্তে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শোভন কাজের পরিবেশ, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি এই সমাবেশ থেকে জানানো হবে।
সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সমাবেশে অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রমজীবী মানুষের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা আশাবাদী। আগামী পাঁচ বছরে এসব প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে চান বলেও জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তাই ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে জাতীয় নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে আরও কার্যকর করার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের অন্যান্য সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের নেতারা মে দিবস সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।









