জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সালিসে চড়ের জেরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে বাটাম (কাঠের লাঠি) দিয়ে মাথায় আঘাত করেছেন এক মাদক ব্যবসায়ী। আহত ওই ইউপি সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রায়কালী ইউনিয়নের চন্দনদীঘি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইউপি সদস্যের নাম আমির হোসেন (৭৬)। তিনি রায়কালী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং চিয়ারীগ্রামের বাসিন্দা। আটক ব্যক্তির নাম লোকমান হাকিম (৪০)। তিনি পাশের তিলকপুর ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চিয়ারীগ্রামে তাঁর দুলাভাইয়ের বাড়িতে বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকমান হাকিম চিয়ারীগ্রামে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে গ্রামবাসী তাঁকে নিষেধ করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। পরে তাঁরা ইউপি সদস্য আমির হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে লোকমানের দুলাভাইয়ের বাড়িতে বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে ইউপি সদস্য আমির হোসেন চৌকিদারকে নিয়ে উপস্থিত হলে লোকমান দেরি করে সেখানে আসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য তাঁকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলেন এবং একপর্যায়ে গালে চড় দেন। তিন দিন পর গতকাল সন্ধ্যায় চন্দনদীঘি বাজারে বসে থাকা অবস্থায় লোকমান হাকিম পেছন দিক থেকে আমির হোসেনের মাথায় বাটাম দিয়ে দুই দফা আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকমানকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আমির হোসেনের ছেলে ও সোনামুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘মাদক ব্যবসা বন্ধে গ্রামবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে লোকমানকে একটু শাসন করেছিলেন আমার বাবা। তিন দিন পর প্রতিশোধ নিতে লোকমান তাঁকে মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেছেন।’
তবে অভিযুক্ত লোকমান হাকিমের দাবি, তিনি মাদক ব্যবসা করেন না। তিনি বলেন, ‘ইউপি সদস্য অযথা আমাকে চড় মেরেছিলেন। প্রতিশোধ নিতে আমি তাঁকে আঘাত করেছি। এ সময় বাজারের লোকজন আমাকেও মারধর করেছেন।’
আক্কেলপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আহত ইউপি সদস্যের ছেলে গতকাল রাতে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় লোকমান হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।









