যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনের ব্যয়সংক্রান্ত বিল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একমত হতে না পারায় অচলাবস্থার মুখে পড়েছে দেশটির সরকার। শেষ মুহূর্তেও বিলটি সিনেটে অনুমোদন না হওয়ার কারণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থছাড় যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে বন্ধ হয়ে গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। এই দিনের আগে সরকারের ব্যয়সংক্রান্ত তহবিল বরাদ্দ নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো না গেলে শাটডাউন তৈরি হয়। অর্থবছরের শেষ দিনেও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সরকারের খরচসংক্রান্ত বিল পাস করা যায়নি। ফলে নিয়মানুসারে বন্ধ হয়ে গেছে সব।
এর আগে এ রকম শাটডাউন নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। শাটডাউন হলে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করা হবে বলেও জানিয়েছিল তারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মোট দুবার এ ধরনের শাটডাউন পরিস্থিতি তৈরি হলো। এর আগে প্রথম মেয়াদে তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ২০১৮ সালে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
শাটডাউনের কারণে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব সরকারি কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের শাটডাউনের ক্ষেত্রে জরুরি নয়, এমন সরকারি কর্মীরা ‘বেতনহীন ছুটিতে’ থাকেন।
হোয়াইট হাউস এরই মধ্যে তাদের ওয়েবসাইটে শাটডাউনের কাউন্টডাউন ঘড়ি চালু করেছে। সে ঘড়ির সঙ্গে তারা ‘ডেমোক্র্যাট শাটডাউন’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছে। ওই ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ডেমোক্র্যাটদের কাজের সঙ্গে একমত নন।
শাটডাউন পরিস্থিতির জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একে অন্যকে দায়ী করছেন। দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষই এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। তার পরও তারা বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে পারেনি।
রিপাবলিকান নেতা জন থুনে বিল পাসে ব্যর্থতার পর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি সরকারি ব্যয়ের জন্য একটি সমঝোতার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা হয়তো সরকারের শাটডাউনের পথ বেছে নিতে পারে। তবে আমি আশা করি এটি কালই আবার চালু হয়ে যাবে।’
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প শাটডাউন পরিস্থিতির আগ দিয়েই নির্দেশনা দিয়েছেন ছাঁটাইয়ের জন্য কর্মীদের তালিকা করার। সে নির্দেশনা মেনে দেশটির সরকারি সংস্থাগুলোকে কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি









