বুধবার | ২২ এপ্রিল, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩
donald trump

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়াকে সংঘাত বন্ধ করতে বললেন ট্রাম্প

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষে কয়েকদিনে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে বহু মানুষ। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎই দৃশ্যপট বদলে যায়—সামনে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্কটল্যান্ড সফরে থাকা অবস্থায় তিনি দুই দেশের নেতার সঙ্গে ফোনে বলেন—যুদ্ধ থামাও, না হলে বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। খবর রয়টার্সের

ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক চাপের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দুই দেশই দ্রুত আলোচনায় বসার ব্যাপারে সম্মতি জানায়। যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু করতে রাজি হয় দুই পক্ষ। কয়েক দশকের পুরনো সীমান্ত বিরোধ এবং ঐতিহাসিক মন্দির ঘিরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে এখন।

শনিবার (২৬ জুলাই) ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, থাই ও কম্বোডিয়ান প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ আলোচনায় সম্মত হয়েছেন। স্কটল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি সরাসরি উভয় নেতার সঙ্গে কথা বলেন এবং সংঘর্ষ বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই এক ফেসবুক পোস্টে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতির পক্ষে, তবে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকেও আন্তরিকতা দেখতে চাই।

ট্রাম্প নিজেও বলেন, উভয় দেশ শান্তি চায়। আমি সরাসরি কথা বলেছি, এখন তারা সমাধানে পৌঁছাতে চায়।

তবে দুই নেতার বৈঠক কবে, কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস, থাইল্যান্ড বা কম্বোডিয়ার কূটনৈতিক দপ্তর থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।

শনিবারও থাইল্যান্ডের ত্রাট ও কম্বোডিয়ার পুরসাত প্রদেশে সংঘর্ষ হয়েছে। আগের যুদ্ধস্থল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে নতুন এই সংঘাতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

দুই দেশই একে অপরকে দোষারোপ করছে। থাইল্যান্ডের দাবি, মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সৈন্যের মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, এখন পর্যন্ত তাদের ৭ সেনা ও ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কম্বোডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তারা হারিয়েছে ১৩ জন, যাদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন সামরিক সদস্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংঘর্ষকে ‘অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানি’ বলে অভিহিত করে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে, সীমান্তে নতুনভাবে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তাদের সেনা আহত হয়েছে। কম্বোডিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, থাইল্যান্ড ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালাচ্ছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগস্টের ১ তারিখের মধ্যে তিনি উভয় দেশের সঙ্গে আলাদা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে চান। তবে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাণিজ্যকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আসিয়ান গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম একটি পৃথক শান্তি প্রস্তাব দেন। কম্বোডিয়া এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেও থাইল্যান্ড এখনো কেবল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বহু পুরনো বিরোধ রয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে ১১শ শতাব্দীর প্রেয়াহ ভিহেয়ার মন্দির। ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মন্দিরটি কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারিত হলেও, ২০০৮ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগে ফের উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়া আবারও এই সীমান্ত ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। তবে থাইল্যান্ড বলছে, আদালতের এখতিয়ার নেই—এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD