তামিলনাড়ুর করুর জেলায় তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) প্রধান ও অভিনেতা-রাজনীতিক ভিজয়ের সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে ৮ শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিড়ের চাপ বাড়তে শুরু করলে এক জায়গায় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন, সেখান থেকেই পদদলনের ঘটনা শুরু হয়।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা অনুমান করেছেন, সেখানে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ভিজয় নামাক্কাল নামক অন্য একটি জায়গা থেকে সমাবেশ শেষে করুরের এই সভায় আসার কথা ছিল, কিন্তু তিনি ৬ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পৌঁছান। এ সময়ের মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “করুর থেকে পাওয়া খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। অজ্ঞান হয়ে পড়া ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কালেক্টর ও সাবেক মন্ত্রী সেন্থিল বালাজিকে সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে। এডিজিপিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আনবিল মাহেশকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সহায়তার নির্দেশ দিয়েছি। আমি জনগণকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “করুরে রাজনৈতিক সমাবেশে ঘটে যাওয়া এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
এটি প্রথম নয় যে ভিজয়ের সমাবেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে আলোচনায় এল। চলতি মাসের শুরুতে তিরুচির প্রথম সমাবেশে বিপুল ভিড় তার গাড়িবহরকে বিমানবন্দর থেকে ভেন্যুতে পৌঁছে দেয়। ২০ মিনিটের যাত্রা তখন ছয় ঘণ্টায় পরিণত হয় এবং পুরো শহর স্থবির হয়ে যায়।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পুলিশ তামিলাগা ভেট্রি কাজগম দলকে সমাবেশে ২৩টি শর্ত আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ছিল গাড়িবহরে যোগ না দেওয়া, গণসংবর্ধনা না করা এবং গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অনলাইনে অনুষ্ঠান অনুসরণের পরামর্শ।
আদালতও এর আগে জননিরাপত্তা নিয়ে কড়া মন্তব্য করে ভিজয়ের ওপর দায়িত্ব আরোপ করেছিল, যদিও টিভিকে এসব শর্তকে দলবিরোধী পক্ষপাত বলে অভিযোগ করেছিল। ভিজয়ের অনুরোধ সত্ত্বেও তার সমর্থকেরা প্রকাশ্যে অনেক শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন। এমনকি অনেকেই শিশু ও নবজাতককে নিয়েও সমাবেশে এসেছিলেন।
মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলাগা ভেট্রি কাজগমকে করা একটি আবেদনের শুনানিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তিরুচির বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি এন সত্যেশ কুমার বলেন, “যদি কোনো অঘটন ঘটত, দায় নিত কে? দলীয় সভাপতি হিসেবে ভিজয়েরই উচিত ছিল ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা।”
প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলো এখন শোকে স্তব্ধ। তবে এ বিষয়ে ভিজয় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। সূত্র: এনডিটিভি









