শনিবার | ১৩ জুন, ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দলে ফিরতে মরিয়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরা

স্টাফ রিপোর্টার

নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বিএনপি। দলটির দফতরের তথ্য অনুযায়ী, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৬শ’র বেশি বিভিন্ন পদের নেতা বহিষ্কার হন। যদিও নির্বাচনের আগে বহিষ্কৃতদের একটা ক্ষুদ্র অংশকে ফেরানো হয় দলে।

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন ঘিরে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে বহিস্কারের খড়গ নামে প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর ওপর। সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা বহিষ্কৃত হন। যাদের অনেকেই কেন্দ্র ও তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে ছিলেন। যদিও বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভরাডুবি হয়, জয়ী হয় মাত্র সাতজন।

বিজয়ীদের একজন ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বহিষ্কৃত হলেও এখন দলে ফিরতে চান। রুমিন ফারহানা বাদে বাকি ছয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মিলে দুইটি আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে। যার একটি নেতাকর্মীদের জন্য।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলছিলেন, আমি যেহেতু স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি, আমি তো অপরাধী। উনি (দলের চেয়ারম্যান) শাস্তি দিয়েছেন, আমি এটা মাথা পেতে নিয়েছি। আমার যে মূল ভিত্তি সেটাকে তো অস্বীকার করতে পারব না। দলে ফেরার ব্যাপারে আবেদন আমরা অনেক আগেই করেছি। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি।

বহিষ্কারের আগে ১৭ বছর এসব নেতাদের অনেকের ওপরই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি নির্ভর করতো। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় কিংবা মামলা ও গ্রেফতারের মুখোমুখিও হয়েছেন তারা। তাই অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে তাদের ঘরে ফেরানোর পরামর্শ বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের।

তিনি বলেছেন, এক-দুই যুগ ধরে যাদের ত্যাগ, তাদের ছোটখাটো ত্রুটি যেগুলো আছে, সেগুলো যদি সংশোধনযোগ্য মনে করেন নীতি নির্ধারকরা তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা উচিত। ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে তাদেরকে দল করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে অন্তত ছয়টি আসনে হেরে যান জোটসঙ্গী জ্যেষ্ঠ নেতারা। এছাড়া, ভোট ভাগাভাগির সমীকরণে প্রায় দশটি আসনে অল্প ভোটে হেরে যায় ধানের শীষের প্রার্থী। সেজন্য বহিষ্কৃতদের দলে ফেরাতে সর্তক বিএনপির হাইকমাণ্ড।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, অনেক অবদান থাকার পরও এমন কিছু হয়ে যায় আরকি যখন শাস্তি দিতে হয়। কিন্তু আমি আবার বলি যে, তাদেরকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এটা আমরা আন্দদের সাথে দিই নাই। খুব কষ্ট নিয়ে আমরা এটা করেছি। তো এ ব্যাপারে দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, দেখার বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নাই।

বহিস্কার প্রত্যাহার না হলেও অনেক নেতাই বিএনপির দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ অন্য দলে যোগ দেয়ার প্রস্তাব পেলেও আপাতত আছেন স্থানীয় নির্বাচনের অপেক্ষায়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD