বৃহস্পতিবার | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

নবীনগর

নবীনগর সদর ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের মোবাইল ছিনিয়ে অফিসে তালা

তানজিনা আক্তার শিলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, সাংবাদিকদের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া ও অফিসে তালাবদ্ধ করার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা-এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, খতিয়ান করতে আসা ব্যবসায়ী আলমাস হোসেন-এর কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিন মাস ধরে তার খতিয়ানের কাগজপত্র ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক পিয়াল হাসান রিয়াজ (বাংলা টিভি ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ), মুমিনুল হক রুবেল (গ্রীন টিভি) ও এসএম অলিউল্লাহ (বাংলাদেশের আলো) সদর ভূমি অফিসে যান। এ সময় সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে তিন সাংবাদিকসহ কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে অফিসের ভেতরে রেখে কেচি গেইটে তালা লাগিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা সদর ভূমি অফিসে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রথমে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। পরে দর কষাকষির মাধ্যমে সমঝোতা হলে খারিজের ফাইল উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে আগেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. রুবেল মিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত বছরের ১ মার্চ দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় সরকারি খালের মাটি কাটার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৭৯ হাজার টাকা ঘুষ নেন শামসুদ্দোহা।
এছাড়াও ১০ জন ভুক্তভোগী ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়ে জানান, খারিজের নামে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হলেও কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তারা।
সেবা গ্রহণকারী ভুক্তভোগী নবির হোসেন ও ইসলাম মিয়া বলেন, একজন খারিজ করতে এসে টাকা না দেওয়ায় কাজ করা হয়নি। সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে নায়েব সাহেব তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী আলমাস হোসেন বলেন, “তিন মাস আগে ৫০০ টাকা দিয়ে খারিজের আবেদন করি। পরে আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার আবেদন বাতিল করা হয়।”
আরেক ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন বলেন, “দুই দিন আগে খারিজ করতে গেলে আমার কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়।”
স্থানীয়দের দাবি, সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা প্রায় সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অফিসে আসেন বলেও জানা গেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি আমাকে জানান যে এটি ভুলবশত হয়েছে। তবে বিষয়টি দুঃখজনক।” আমরা একটি শুনানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠলেও অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে থেকে একের পর এক ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD