আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের এডমিন শিশির মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী।
পুলিশ জানায়, কাতারে সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শিশির মুন্না ও তার সহযোগীরা এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তারা ভুক্তভোগীকে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহ করেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টালবাহানা শুরু করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী বলেন, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির ওয়ারী বিভাগের একটি দল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের সহযোগিতায় মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশির মুন্নাকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশির মুন্না সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের এডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি নির্বাচনি প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রমোশনাল কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহের মাধ্যমে তিনি প্রতারণা করতেন। এছাড়া ব্যবসায়িক বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিশির মুন্না কাতারে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ফিরে এসে পুনরায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও মুলতবি রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।









