সিট নীতিমালা চূড়ান্ত না হলে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে সিট পলিসি চূড়ান্ত করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের আবাসনের ব্যবস্থা ভাতা দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। এসব নিশ্চিত করার পরই ক্লাস শুরু করা উচিত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রেজিস্ট্রার ভবনের অসঙ্গতি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির প্রতিবাদে আয়োজিত ঘেরাও কর্মসূচি থেকে তিনি এ কথা বলেন।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, আমরা আজ দুটি ইস্যু নিয়ে এখানে এসেছি। একটি রেজিস্ট্রার ভবন ইস্যু, অন্যটি প্রথম বর্ষের সিট পলিসি ইস্যু। এই দুই ইস্যু নিয়ে আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে টানা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চেষ্টা করছি, যাতে একটি স্থায়ী সমাধানে যাওয়া যায়। নতুন ভিসি নিয়োগের পর সাক্ষাৎ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎ হয়েছে। প্রতিবারই আমরা সাধারণ বিষয়গুলো লিখিত-অলিখিত ও অনানুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করেছি। প্রথম বিষয়টি ছিল সিট পলিসি। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। আমরা দেখেছি, মাস্টার্সে হলে ওঠার পর থাকার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে, যা আগস্টের পর দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আগস্টের পর ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ বা তার আগের সেশনের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে হল ছেড়ে দিয়েছে; সেখানে প্রশাসনকে তেমনভাবে সহযোগিতা করতে হয়নি। কিন্তু এখন আমরা তাদের থেকে যাওয়ার প্রবণতা এবং নবীনদের সিট না দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করছি।
ফরহাদ বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা, ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যাদের সিট দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের আবাসন খরচের জন্য ভর্তুকি দিতে হবে। তা না হলে ক্লাস শুরু করার এখতিয়ার প্রশাসনের নেই। একজন শিক্ষার্থী ঢাকায় কীভাবে থাকবে, তার ব্যবস্থা না করে ক্লাস শুরু করার এখতিয়ার নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে একজন শিক্ষার্থী কোথায় থাকবে, তা বিবেচনা না করে ১-২, ৫-৬ কিংবা ৮-৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সিট দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, যারা নিজেদের ক্ষমতার অংশ মনে করে, তারা শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। নব্বইয়ের ডাকসুর পর যেমন গণরুম ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, আবারও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমাসহ অন্যরা।









