যশোরের বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতে মারা যান জব্বার মন্ডল (৭৫)। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখতে চান বাংলাদেশে বসবাসকারী মেয়ে মিতু মন্ডল। কিন্তু পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না।
অবশেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় বাবার মরদেহের মুখ দেখার সুযোগ পান তিনি।
বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে যশোরের বেনাপোল ধান্যখোলা সীমান্তের মেইন পিলার-২৫/৬-এস সংলগ্ন স্থানে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়। এতে অংশ নেন বাংলাদেশের ৪৯ বিজিবি ও ভারতের ৬৭ বিএসএফ সদস্যরা।
ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার বাশঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক অঞ্চল প্রধান জব্বার মন্ডল বার্ধক্যজনিত কারণে একদিন আগে মারা যান। মৃত্যুর পর বাংলাদেশে থাকা মেয়ে মিতু মন্ডল ও জামাই বাবলু মন্ডলের ইচ্ছা অনুযায়ী বিএসএফ বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে।
এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজনরা। পরে মরদেহ ভারতে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আত্মীয়রা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
বিজিবির ধান্যখোলা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. সেলিম মিয়া বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালন শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজন হলে মানবিক দিকও বিবেচনা করা হয়।”
বাংলাদেশী জামাতা বাবলু মন্ডল জানান, “বিজিবি-বিএসএফ সহায়তা না করলে শশুরের লাশ দেখতে পেতাম না। আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”
স্থানীয়রা বিজিবি-বিএসএফের এই উদ্যোগকে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।









