আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ছাত্রদের যুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এপ্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের মতো একটা জটিলরাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবেনা। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তার প্রতিষ্ঠানবিতর্কিত হতে পারে। সেজন্য তাদেরকে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করা বেটার হবে।
আজ রবিবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনকমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকেএ আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। বৈঠক শেষে নজরুলইসলাম খান সাংবাদিককের এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি যে, অল্প বয়সী ছাত্রদের সংসদ নির্বাচনের মতো একটিজটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবেনা। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর আইনে যাদের কথা উল্লেখ আছে, তাদেরকেই নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। আমরাজানতে পেরেছি যে, ছাত্রদের পর হয়তো স্কাউটদেরওযুক্ত করার কথা বলা হতে পারে। কমিশন আমাদেরকথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং এ ব্যাপারেআলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি কমিটিগঠনের একটি গুঞ্জন আমরা শুনেছি। শান্তি কমিটিশব্দটা আমাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। যদিও নির্বাচনকমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি করারসিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। এছাড়া আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদেরএলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনী এলাকায় কাজকরছেন। আইনে বাধা না থাকলেও, বিশৃঙ্খলাএড়াতে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদেরএলাকা ত্যাগ করা উচিত। কমিশন এ ব্যাপারে ব্যবস্থানেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেখেছি প্রায় ৫৫হাজারেরও বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতিদেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অপরিচিতপ্রতিষ্ঠানও আছে। আমরা কমিশনকে বলেছি তারাবিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন কি না।আমাদের মতে, যাদের সক্ষমতা আছে তাদেরইপর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে ভোটকেন্দ্রেঅতিরিক্ত পর্যবেক্ষক যেন নির্বাচনী কাজে বিঘ্ন নাঘটায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গত এক-দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহদেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটারমাইগ্রেশন হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।যদিও কমিশন বলছে এই সংখ্যা মাত্র ২-৩ হাজার, কিন্তু আমরা এই তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমাদেরধারণা, তাদের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।এমনকি অনেক হোল্ডিং নম্বরে যেখানে ৪-৫ জনথাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ারঅভিযোগ রয়েছে। আমরা আসনভিত্তিক সঠিক তথ্যজানতে চেয়েছি এবং কমিশন তদন্ত করার কথাবলেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনোষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কমিশনকে সাংবিধানিক ভূমিকাপালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ইলেক্টোরালইনকয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি থাকলেওসাধারণ মানুষ বা প্রার্থীরা সে সম্পর্কে তেমন জানেননা। আমরা বলেছি এই কমিটির কার্যক্রম যেনদৃশ্যমান হয়।
এর আগে দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেবৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুলইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটিপ্রতিনিধি দল।









