শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ৭ কার্তিক, ১৪৩৩

সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনে দিল্লি সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

স্টাফ রিপোর্টার

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার ভারত সফর শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা এবং দুই দেশের বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েই তার এ সফর।

২০২৩ সালে শিখ কর্মী হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। সে সময় কানাডা অভিযোগ তোলে যে, কানাডার মাটিতে শিখ কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অভিযানে ভারতের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ভারত এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে। ওই ঘটনার জেরে ২০২৪ সালে উভয় দেশ শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে।

মুম্বাইয়ে পৌঁছে কার্নির ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরের শেষ দিনে তিনি রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। কার্নির দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মানবসম্পদ, সংস্কৃতি এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন অংশীদারত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। গত বছর দুই দেশ প্রস্তাবিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়।

কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। ভারত সে অভিযোগ অস্বীকার করে। ২০২৪ সালে কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে উভয় দেশ শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে।

২০২৫ সালের মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্নির নেতৃত্বে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পুনরায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনন্দ জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

কার্নি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত–কানাডা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে ভারত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আগ্রহী এবং তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পারমাণবিক বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় কানাডার সহায়তা প্রত্যাশা করছে।

ভারত সফর শেষে কার্নি অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করাই তার কৌশলের অংশ। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার আগে কানাডার ৭৫ শতাংশের বেশি রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে যেত এবং দুই দেশের বাণিজ্য ৯০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। যদিও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় অধিকাংশ পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত, তবু খাতভিত্তিক শুল্ক আরোপ ও চুক্তি বাতিলের আশঙ্কা কানাডার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে প্রবেশ বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মাটির উপাদান সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা জোরদার করাই কার্নির বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD