ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেখানকার অনেকেই বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছেন। তাঁর ভাষায়, “দেশে সিস্টেমের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে সিস্টেম একসময় নরেন্দ্র মোদি নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই সিস্টেমই এখন আমাকে তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে। গোটা ব্যবস্থার ভেতর থেকে একটি বড় ঝাঁকুনি আসতে চলেছে।”
তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নিয়মিতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, “আমার হিসাবে নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।”
কংগ্রেস নেতা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ভারতের সামনে একটি বড় অর্থনৈতিক সংকট এগিয়ে আসছে, যা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘শক অ্যাবজরবার’ ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি ধ্বংস করে ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাব আরও তীব্রভাবে দেশের ওপর পড়তে পারে।
এখানেই থেমে থাকেননি রাহুল গান্ধী। তিনি আরও দাবি করেন, “যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে মনে করা হয়, সেই নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকেও আমার কাছে বার্তা আসে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিয়মিত তথ্য পাঠান।”
রাহুলের বক্তব্য, মোদি এখন চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন, কারণ তিনি বুঝতে পারছেন যে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় সরকার জরুরি অবস্থার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর মতে, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যার নজির সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। সেই সংকট মোকাবিলায় সরকার অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের পথ বেছে নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন কংগ্রেস নেতা।
উল্লেখ্য, ভারতে সর্বশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না হলেও দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে।
তবে রাহুল গান্ধীর উত্থাপিত দাবিগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার বা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের অভিযোগ কতটা সত্য এবং তা আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস









