ঘ’ট’নাটি বরিশালের বামরাইল বন্দরের বাজারের। রাতে সেখানে এক ব্যক্তিকে চু-রি-র অ-ভি-যোগে ধরে ফে-লে স্থানীয়রা। পরে তাকে মারধর করে একটি খুঁ-টি-র সঙ্গে বেঁ-ধে রাখা হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, সবাই অপেক্ষা করছিল পুলিশের আসার জন্য।
ভোরের আলো ফো-টা-র আগেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে তার ৮/৯ বছরের ছোট্ট মেয়েটি।
এসে সে দেখে তার বাবা দু’র্ব’ল হয়ে বসে আছে। শ’রী’রের বিভিন্ন জায়গায় আ-ঘা-তের চি”হ্ন। চারপাশে ক্ষু’ব্ধ ও উৎসুক মানুষের ভি’ড়।
মেয়েটি প্রথমে বাবার কাছে গিয়ে কান্না করে। তারপর বাবার শরীরে যেখানে যেখানে আ-ঘা-ত করা হয়েছে, ছোট্ট হাত দিয়ে সেসব জায়গা মুছে দিতে থাকে।
এরপর যা ঘ’টল, সেটাই হয়তো এই পুরো ঘ’ট’নার সবচেয়ে মায়াবী দৃশ্য।
ছোট্ট মেয়েটির মনে হলো তার বাবার হয়তো ক্ষু%ধা লেগেছে।
সে পাশের একটি দোকানে গিয়ে নিজের মতো করে একটি পাউরুটি আর এক কাপ চা কিনে নিয়ে আসে। তারপর বাবার সামনে বসে চায়ের কাপে রুটি ভিজিয়ে ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিতে থাকে।
বাবা ল”জ্জায় মাথা উঁচু করতে পারছিলেন না। আর ছোট্ট মেয়েটি কিছুই বুঝছে না সে শুধু জানে, তার বাবা ক-ষ্টে আছে, তার হয়তো ক্ষু-ধা লেগেছে। তাই বাবাকে খাওয়াতে হবে।
দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত মানুষের মনও ন’র’ম হয়ে আসে। যারা কিছুক্ষণ আগেও তাকে মারছিল, তারাই বলতে থাকে
“খা রুটি খা… ছোট্ট মেয়েটা দিচ্ছে, খা। আমরা আর মারব না।
তার বাবা হয়তো দো”ষী কিন্তু সেই মুহূর্তে ৮/৯ বছরের মেয়েটির কাছে তিনি শুধু একজন মানুষ নন তিনি তার বাবা।
বাবার পরিচয়, বাবার ভু’ল, বাবার ল”জ্জা এসবের কিছুই সে বো-ঝে না। সে শুধু বোঝে, তার বাবার কষ্ট হচ্ছে, তার বাবা ক্ষু-ধা-র্ত।
সন্তানের কাছে বাবা-মায়ের জায়গাটা বোধহয় এমনই৷ পৃথিবী যখন একজন মানুষকে অপ’রাধী হিসেবে দেখে, ছোট্ট সন্তান তখনও তাকে শুধু ‘বাবা’ হিসেবেই দেখে!!









