১৭ অক্টোবর শনিবার সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠাপোষকতায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে লালন সাঁই-এর ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে “লালন স্মরণানুষ্ঠান”-এ সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন -পরম পুরুষ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবধর্মের মহান সাধক।
ফকির লালন সাঁই কেবল একজন বাউল সাধক বা সুরস্রষ্টা ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমাদের জাতীয় জীবনের অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যবাদের এক মহিমাম্বিত প্রবক্তা। যখন সমাজ ও রাজনীতিতে ভেদাভেদ আর সংকীর্ণতার অন্ধকার ছেয়ে যায়, তখন লালনের মানবতাবাদী দর্শন আমাদের নতুন পথের দিশা দেখায়। জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ ও সামাজিক শ্রেণির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পরম পরিচয়কে তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁর সেই যুগান্তকারী উচ্চারণ— “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে / লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে” —আজকের দিনে আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আমাদের সরকার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময়ই বাংলাদেশের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, আবহমান লোকসংস্কৃতি এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবধারাকে সংরক্ষণ ও বিকশিত করতে সংকল্পবদ্ধ। লালন সাঁই যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, সাম্য ও মানবতার শিক্ষা আমাদের দিয়ে গেছেন, তা তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। সাম্যবাদ ও সহমর্মিতার দর্শনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে লালনের বাণী আমাদের সবসময় প্রেরণা যোগাবে।
আজকের এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজক ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’, সম্মানিত বিশেষ অতিথি, মুখ্য আলোচক এবং সুধীমণ্ডলীকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
আসুন, ফকির লালন সাঁইয়ের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে আমরা একটি বৈষম্যহীন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সুসংহত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।









