১৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. (সোমবার):শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা দায়িত্ব সরেজমিনে তদারকির ধারাবাহিকতায় আজ (সোমবার) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দায়িত্ব পালনরত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন।
মহাপরিচালক বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা সরাসরি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। পূজা উদযাপন কমিটি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে পূজামন্ডপ কেন্দ্রিক যেকোন বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে। এবারের পূজায় পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আধিক্যের পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ এর সমন্বিত তাৎক্ষণিক সাড়াদান এবং তৎপরতা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে।
মহাপরিচালক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং টিমের নিবিড় তদারকির আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে সব পর্যায়ের পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে।
তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। কোনো ধরনের উসকানি, গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক সেবায়ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। পূজামণ্ডপে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, বয়স্ক দর্শনার্থীদের সহযোগিতা, সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, নারী উত্যক্তকারীদের প্রতিহত ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল সেবা প্রদান এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সুরক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।









