বৃহস্পতিবার | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

নীতি সুদহার কমানো হতে পারে, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতি সুদহার কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। প্রথম ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট (বেসিস পয়েন্ট) কমাতে পারে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদহারও হ্রাস পাবে। এই বিষয়ে আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি) বৈঠক ডেকেছে। বৈঠকে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ঊর্ধ্বমুখী রাখা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও লক্ষ্য অনুযায়ী তা কমেনি। বর্তমান মূল্যস্ফীতি সাপ্লাই সাইটের সমস্যা দ্বারা প্রভাবিত।

তিনি আরো বলেন, নতুন গভর্নর এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগে সহযোগিতার কথা বলেছেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুদহার কমানো অপরিহার্য। তাই এমপিসি বৈঠক থেকে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের সময় সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে কমিটি বিদ্যমান ১০ শতাংশ নীতি সুদের হার থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর প্রস্তাব দিতে পারে।

সর্বশেষ গত মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছেন সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিলেন। এই ১০ শতাংশ নীতি সুদহার ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে।

দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালের আগস্টের পর তিন দফায় নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে উঠলেও পরে তা কিছুটা কমে জানুয়ারিতে আট দশমিক ৫৮ শতাংশে এসেছে।

ব্যাংকিং খাত বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণে জর্জরিত, যা ঋণ প্রদান সক্ষমতাকে সীমিত করেছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। এমন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথমদিন তিনি যে অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন, তার মধ্যে খেলাপি ঋণ সংকট মোকাবিলার বিষয়টি ছিল না। একজন পেশাদার ব্যবসায়ী হিসেবে তার নিয়োগ শিল্পমহলে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তার ঘোষিত ১১টি অগ্রাধিকারের মধ্যে চারটি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এই সময়ে সুদের হার কমালে সাম্প্রতিক অর্জনগুলো ব্যাহত হতে পারে। তাই সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত সীমিত ও সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া উচিত।

উল্লেখ, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে স্বল্প সময়ের জন্য দেওয়া ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সুদহারকে নীতি সুদহার বলা হয়। এটা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মুদ্রানীতির একটি অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের প্রায় সব দেশেরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হাতিয়ার ব্যবহার করে। নীতি সুদহার বেশি থাকলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে নিরুৎসাহিত হয়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD