যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে বাংলাদেশীদের পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক ও কষ্টকর’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি জানান বিষয়টি অস্বাভাবিক না।
যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয়ে না। অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কোন দেশগুলো আছে? যাদের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা আছে। আপনারা মার্কিনিদের পরিসংখ্যান দেখেন, যারা তাদের সামাজিক সুরক্ষা থেকে এভাবে গিয়ে পয়সা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর এ রকম নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাতে বাংলাদেশ থাকবে এটা খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি অবশ্যই দুঃখজনক ও কষ্টকর। কিন্তু অস্বাভাবিক না।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নীতির দিক থেকে আমি যেটা বলতে পারি, সেটা হলো এ সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে। এ সমস্যার সমাধান একমাত্র আসবে, যদি অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। পত্রিকা এবং মিডিয়াসহ সব জায়গায় দেখা গেছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে উদ্ধার হয়ে এসেছে। যে ফিরে আসে সে একজন ভিক্টিম, তার প্রতি সব ধরনের সহানুভূতি দেখানো হয়। কিন্তু আইন ভঙ্গ করে গ্রামের যে ছেলেটি ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যাচ্ছে, তার তো আসলে কেনিয়াতে ট্যুরিস্ট হিসেবে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। আমাকে অসংবেদনশীল শোনালেও এ দুর্ঘটনাগুলো (ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি) না ঘটুক। এ জন্য যারা ফিরে আসবে তাদের সাহায্য নিতে হবে। সাহায্য নিতে গেলে অবশ্যই তাদেরকে আটকাতে হবে এবং জানতে হবে কাকে টাকা দিয়েছে, সেই লোকগুলোকে আটকাতে না পারলে এ সমস্যার কোনোদিন সমাধান হবে না।’
ভিসা বন্ড সমাধানে মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা চেষ্টা করব, যেন এটা থেকে আমাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়। চেষ্টা তো অবশ্যই করব।









