শুক্রবার | ৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার

তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত ১২টি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষাক্রমের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান উপদেষ্টার দফতর বলেছে, আজ থেকে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার তিন প্রাথমিক এবং নয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চালু হলো। পর্যায়ক্রমে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত মোট ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম চালু করা হবে।

উদ্বোধনী আয়োজনে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা; প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো– রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল ও বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, অথচ তোমাদের ওখানে পৌঁছায়নি। এটা যে এতোদিনেও হয়নি, এজন্য সরকার দায়ী। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজকে শুরু করলাম মাত্র ১২টা স্কুল নিয়ে। অথচ এটা সাড়ে ৩ হাজার স্কুলে শুরু হওয়ার কথা। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

তিনি বলেন, তোমাদের এত সুন্দর জায়গা, পৃথিবীতে এত সুন্দর জায়গা কয়টা আছে? অথচ ওখানে ভালো শিক্ষকরা যেতে চায় না। কারণ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। ইন্টারনেটের মজা হলো, এখন আর এক শিক্ষকের ওপর নির্ভর থাকতে হবে না। শিক্ষক পৃথিবীর যেখানে আছে, সেখান থেকেই তোমাকে পড়াবে। তোমার যে শিক্ষক পছন্দ, তার কাছেই তুমি পড়তে পারবে। শিক্ষকের অভাবে তোমাদের শিক্ষার মান কমবে না।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুনিয়াতে কী হচ্ছে, সে তথ্য তোমরা জানতে পারবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য। দুর্গম জায়গায় ভালো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ইন্টারনেট থাকলে ডাক্তার যেখানেই থাকুক, তোমরা যোগাযোগ করতে পারবে। পরামর্শ, ওষুধ নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। অন্য নাগরিক যে অধিকার পায়, তোমরাও সে অধিকার পাবে। আল্লাহ অন্য সবার মতো তোমাদেরও বুদ্ধি দিয়েছে, যোগ্যতা দিয়েছে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। তোমরাও সমান সুবিধা পাবে। এটা দিতে না পারা হলো সরকারের অযোগ্যতা, এই অযোগ্যতা থেকে আমরা যেন বের হয়ে আসতে পারি।

উদ্বোধনের পরে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। তারা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করলো। পর্যায়ক্রমে ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু করা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। সরকার চায় পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের মূল ধারা এবং বিশ্বপরিসরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হোক।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD