বৃহস্পতিবার | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভোটের প্রচারণায় কুৎসা ও চরিত্রহনন নিষিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার

নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো, অশালীন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চরিত্রহনন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধরনের বক্তব্যকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর ধারা ১৫ তে বলা হয়েছে—

(ক) নির্বাচনি প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো, অশালীন এবং আক্রমণাত্মক বা ব্যক্তিগত চরিত্রহনন করিয়া বক্তব্য প্রদান বা কোনো ধরনের তিক্ত বা উসকানিমূলক বা মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবেন না।

(খ) মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং (প্যাগোডা), গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় এবং কোনো সরকারি অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা চালাইতে পারিবেন না।

(গ) নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির কোনোরূপ ক্ষতিসাধন এবং অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দ্বারা কাহারও শান্তি বিনষ্ট করিতে পারিবেন না।

(ঘ) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করিবার উদ্দেশ্যে কেহ কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করিতে পারিবেন না।
(ঙ) ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কেহ কোনো ধরনের অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য এবং Arms Act, 1878 (Act No. XI of 1878) এর সংজ্ঞায় নিরূপিত অর্থে Firearms বা অন্য কোনো Arms, লাঠি বা দেশীয় কোনো ধারালো বা ভোঁতা অস্ত্র বহন করিতে পারিবেন না।

 

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে ইসি। আরিপও ৯১খ(৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিধিমালার কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

একইভাবে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলটিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রাখে। কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে ইসি। তদন্তে সন্তুষ্ট হলে আরপিও ৯১ঙ অনুযায়ী লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে। প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আদেশ দ্রুত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হবে এবং তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

 

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD