শনিবার | ২৭ জুন, ২০২৬ | ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি এ মেলার উদ্বোধন করেন।

তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বইমেলা ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। মেলা উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।

রমজান মাসে মেলা হওয়া নিয়ে রুহামা পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এবারের একুশে বইমেলা পবিত্র মাহে রমজানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও জ্ঞানচর্চার মাস। আমি বিশ্বাস করি, যে কোনো বিষয়ের সঠিক জ্ঞান নিজেই এক পবিত্র সম্পদ আর সে জ্ঞানচর্চার জন্য প্রয়োজন পরিশুদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও পবিত্র পরিবেশ। সৌভাগ্যক্রমে এ বছর আমরা তেমন একটি আবহে বইমেলা পাচ্ছি। আশা করছি, সবাই পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষা করে জ্ঞান অন্বেষণ ও চর্চায় আরো মনোযোগী হবেন।

অন্যদিকে রমজান মাসে বইমেলা হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতি দেখছেন প্রগতি পাবলিকেশনের প্রকাশক আশরার মাসুদ। তিনি মনে করেন, এবার বইমেলা রমজান মাসে হওয়ায় এটি জমে উঠবে না। ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

বইমেলাকে ঘিরে সম্ভাব্য কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য না থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা রাখা হচ্ছে কঠোর নজরদারিতে। গতকাল সকালে বইমেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার।

তিনি বলেন, বইমেলা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে পুলিশি মনিটরিং। মেলায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে দিনরাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি নিরাপত্তা তদারকি করবেন। বইমেলাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত কোনো মব বা বিশৃঙ্খলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা নেই। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারেÑএমন কোনো প্রকাশনা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

এছাড়া ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম, ফুট প্যাট্রোল ও মুক্তমঞ্চকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিবি, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াটসহ বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।

অন্যদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ পৃথক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়েছে। বইমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিনে ও রাতে ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক সার্বক্ষণিক বন্ধ থাকবে না, দর্শনার্থীর চাপ বিবেচনায় সময়ভিত্তিক খোলা বা বন্ধ রাখা হবে।

নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থার আওতায় ফুলার রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদিত যানবাহন রাখা যাবে। নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীলক্ষেত/ভিসি বাংলো ক্রসিং, শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর থেকে আগত যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ইউটার্ন ও ডাইভারশন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আয়োজক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD