অধ্যাদেশ সংশোধন ও বাতিলের বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে সম্মতি জানালেও পরে বিরোধিতা করেছে জামায়াত— এমন অভিযোগ সরকার দলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির। তার দাবি, সকলের মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাদেশগুলো পরবর্তীতে বিল আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কেবল রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিরোধী দল এমন আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন বিরোধী দলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, বিশেষ কমিটিতেও আপত্তি জানিয়েছিল জামায়াত। সরকার সবখানে নিজেদের দখল রাখতে চাইছে বলে অভিযোগ তার।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে বাতিল হয়ে যায় অধ্যাদেশ।
অভ্যুত্থান পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের জারি করা ৯৮টি অধ্যাদেশকে সংসদ আইনিভিত্তি দিয়েছে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে। এর মধ্যে আছে স্থানীয় সরকার সংশোধন বিল, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন বিল, সরকারী কর্ম কমিশন বিলের মতো বিধান।
বিরোধী দল মূলত আপত্তি তুলছে সংশোধিত বিল ও বাতিল হওয়া অধ্যাদেশ নিয়ে। সংসদে ১৫টি অধ্যাদেশ পাস হয় সংশোধিত আকারে। যার একটি ব্যাংক রেজ্যুলেশন। সংশোধনে বলা হয়, ৭.৫ শতাংশ টাকা দিয়ে মালিকানা ফিরে পেতে পারবেন পুরনোরা।
এ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধনের ফলে ব্যাংক লুটেরারা সুযোগ পাবে। এছাড়া, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়েও সংসদে ব্যাপক সমালোচনা করেন তারা। তাদের দাবি, জাদুঘরে খবরদারি বাড়বে সরকারের।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের কথাটাই এনেছেন তারেক রহমান। আমরা বিপক্ষে হলাম কেমনে? আমাদের কখন বিপক্ষে বানালো হলো? যখন অন্তর্বর্তী সরকার চুরি করে একটা কাগজ তৈরি করে দিয়েছেন, যেখানে আমাদের নোট অব ডিসেন্ট আছে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মজার বিষয় হলো ফ্যাসিবাদের আমলে কিছু বিষয় যে জায়গায় ছিল, ওই জায়গায় যাওয়ার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী সরকার। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, সরকার কিছুটা সেই দিকেই হাঁটছে। আমরা অনেকগুলো বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিচার বিভাগ সংক্রান্ত তিনটি এবং সংসদ সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করায় ক্ষোভ জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের।
তাদের অভিযোগ, এতে বিচারপতি নিয়োগ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সরকারি দল বলছে, দ্রুত জারি করা অধ্যাদেশ চারটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। তারা পরবর্তীতে নতুন বিল এনে এগুলো সংসদে পাস করবেন।
১৩৩টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদেই তোলা হয়নি। সেগুলোর মধ্যে আছে, গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো। জুলাই সনদ নিয়ে আলাদা কোনো অধ্যাদেশ জারি করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। জারি করা হয়েছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ। যা সংবিধান সম্মত হয়নি বলে মনে করে বিএনপি।
বিরোধীদের মতে, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশল হিসেবে গণভোটের মতো অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়নি। সরকারি দলের চিফ হুইপের দাবি, সব অধ্যাদেশ নিয়েই আলোচনা হয়েছে, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে। যেখানে এসব বিষয়ে সম্মতি ছিল বিরোধীদের।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, যদি তারা না মানতো তাহলে প্রতিবেদন দিয়েছে কেন? তাতে তো তারা মতামত দিয়েছে, এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাইবাছাই করবে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে আমাদের কথা হয়েছিল, সকল অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হবে আবার এবং সকল সদস্যই তার বক্তব্য সংসদে উপস্থাপন করতে পারবে। কিন্তু সকল অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় নাই। উনি (নূরুল ইসলাম মনি) যেটা বলছেন, সেটা উনার কথা বলছেন। আমাদের বক্তব্য এটা ছিল না।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় আছে বলে মনে করেন দুই পক্ষের সংসদ সদস্যরা।









