ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য অনলাইনে বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সক্রিয় একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইলের কালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড—যার মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম—এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি ফেসবুক থেকে বিভিন্ন পণ্যের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে তা সম্পাদনা করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। এসব পেজে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয় ও অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন পণ্যের আকর্ষণীয় অফার প্রচার করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ভুয়া কমেন্ট ও ভিডিও তৈরি করে বিজ্ঞাপন বুস্টের মাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলে নিজেদের নাহিদ, জাবেদ, সনি মিয়া, হাজী আব্দুল কাদের ও সাকিবসহ বিভিন্ন ভুয়া নামে পরিচয় দিত। প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স দেখানোর পাশাপাশি নকল ভাউচারও ব্যবহার করত তারা। পরে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করত।
চাঁদপুর মডেল থানায় এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির যৌথ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। এসআই মোঃ আনছার উল্লাহ, এসআই মোঃ জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও এএসআই মোঃ জহির উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত দল গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযান শেষে ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে ফিরে আসে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নড়াইলের কালিয়া থানার আমতলা এলাকার ফুরকান @ ফুরকান শেখ (২৫), নওয়াগ্রামের চান মিয়া @ চান্দু শেখ (২৫), একই এলাকার রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)।
পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় এর আগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন চারজনসহ অনলাইন প্রতারণা চক্রটির মোট ছয় সদস্য এখন পুলিশের হাতে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার নামে প্রতারণা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।









