গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং সেকশনে এক নারী শ্রমিক মাথা ঘুরে পড়ে গেলে একে একে আরও অনেক শ্রমিকের বমি, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার উপসর্গ দেখা দেয়।
অসুস্থ শ্রমিকদের কারখানা কর্তৃপক্ষ মাওনা চৌরাস্তার আলহেরা হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন জানান, অর্ধশতাধিক শ্রমিককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, গত ২৫ জুন একই কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ফ্লোরে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তবে অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
এ সময় স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছিল। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কারখানা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। শ্রমিকরাই আতঙ্কে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন একই কারখানার সুইং অপারেটর লিজা আক্তার (৩৬) কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনার পর শ্রমিকরা কর্মপরিবেশ ও কাজের চাপ নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সর্বশেষ একই কারখানায় আবারও শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এমই









