পঞ্চগড় জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি যেন নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গনে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে পুষ্টিকর খাবার পেয়ে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটছে তৃপ্তির হাসি, আর সেই হাসিই স্বস্তি এনে দিচ্ছে অভিভাবকদের মনেও।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে জেলার চারটি উপজেলায় ৫৯০টি বিদ্যালয়ের ৭৮ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।
প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম, বনরুটি, ২০০ মিলিলিটার এইচটি মিল্ক ও একটি করে কলা বিতরণ করা হচ্ছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাদ্যতালিকা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে ইএসডিও নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
সদর উপজেলার সিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, খাবার বিতরণের সময় স্কুল প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিশুরা যখন তাদের খাবার গ্রহণ করে,তখন যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
সিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। আগে যারা অনিয়মিত ছিল, তারাও এখন নিয়মিত হচ্ছে এবং পড়াশোনায় আগ্রহী হয়ে উঠছে।
এ সময় ইএসডিও পঞ্চগড় জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহিন আলম,সদর উপজেলা কোঅর্ডিনেটর শ্রী তুলসী রানী রায় এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোদেলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ জামান উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমিনুল হক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ শুধু পুষ্টি নিশ্চিত করছে না, বরং শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এ কর্মসূচি চালু থাকলে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সন্তানের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে সরকারের এই উদ্যোগ যেন আশার আলো হয়ে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠেও শোনা যায় আনন্দের সুর প্রতিদিন ভালো খাবার পাই, তাই এখন স্কুলে আসতে অনেক ভালো লাগে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারের এমন সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, মেধাবী ও শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, পুষ্টি আর শিক্ষার সমন্বয়ে পঞ্চগড়ের প্রাথমিক শিক্ষায় যেন শুরু হয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার যাত্রা।









