দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের হাত ধরে যার যাত্রা শুরু। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আর্থ -সামাজিক উন্নয়নে প্রণিধানযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। কামরুল ইসলাম পরবর্তী সবচেয়ে বেশি সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন মোঃ শহীদুল হাসান, মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, শ্যামা প্রসাদ অধিকারী, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ খলিলুর রহমান, আব্দুর রশীদ খান, আলি আখতার হোসেন। ইতোমধ্যে এলজিইডিতে ২১ জন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেনে। সাম্প্রতিক ৪ জন প্রধান প্রকৌশলী রুটিন দায়িত্ব পালন করেছেন। যার ফলে এলজিইডি পূর্ণমাত্রায় এর কার্যক্রম পালন করতে পারছে না মর্মে অনেকের অভিমত।
ঠিক এই সময়ে আবারও রুটিন দায়িত্ব প্রধান প্রকৌশলী হলেন ভদ্র, মার্জিত,ও মেধাসম্পন্ন সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন। যেনো রুটিন দায়িত্ব থেকে এলজিইডি বের হতেই পারছে না। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর পদটি গ্রেড-১ সমমর্যাদার। ফলে এই মানের প্রধান প্রকৌলীর মর্যাদা না পাওয়ায়-একটা গোপন হতাশা আছে, যেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যহত হচ্ছে। প্রশাসনিক সংকটও কাটছে না । সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) মো. বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হলেও তাকে স্থায়ী বা পূর্ণদায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন তার বর্তমান পদে বহাল থেকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। অনেক সময় ধরে যে রুটিন দায়িত্বের ধারাবাহিকতা চলছে, সেখান থেকে এলজিইডিকে বের করাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত প্রায় এক বছর ধরে এলজিইডির শীর্ষ পদে পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না। বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, নীতিগত সিদ্ধান্ত, জনবল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তিতে সমস্যা লক্ষনীয়।
এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা। গ্রামীণ সড়ক, সেতু-কালভার্ট, হাটবাজার উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোসহ বহু প্রকল্প এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত থাকে।
অফিস প্রধান হিসেবে রুটিন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপরের পদের দৈনন্দিন, স্বাভাবিক ও প্রশাসনিক কাজগুলো করতে পারেন, যেমন – ফাইল অনুমোদন, কর্মীদের নির্দেশনা প্রদান, দাপ্তরিক চিঠিপত্র নিষ্পত্তি, বাজেট ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, এবং সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে অফিস পরিচালনা; তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পদোন্নতি বা নতুন নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মূল নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের (যেমন: মন্ত্রণালয়) উপর নির্ভর করতে হয় এবং নির্বাচনকালীন সময়ে কিছু কাজে বাধ্যবাধকতা থাকে।
দৈনন্দিন অফিস পরিচালনা, কর্মীদের কাজ বণ্টন, ছুটি মঞ্জুর, শৃঙ্খলা রক্ষা,বিল অনুমোদন, বাজেট বাস্তবায়নের তদারকি,
ফাইল অনুমোদন, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চিঠি চালাচালি, প্রতিবেদন তৈরি।
রুটিন মাফিক বদলি বা দায়িত্ব বণ্টন (তবে উচ্চ পদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন লাগতে পারে)।
নিজ দপ্তর বা বিভাগের জন্য মডেল হতে পারে এমন কিছু ‘আইকনিক’ বা উদ্ভাবনী কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।
বড় ধরনের নীতি প্রণয়ন বা পরিবর্তন করা যায় না।
পদোন্নতি বা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের (যেমন: মন্ত্রণালয়) অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ (যেমন পদোন্নতি) নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া করা যায় না, তবে রুটিন কাজ চলতে পারে।
রুটিন দায়িত্ব মানে হলো মূল পদের অনুপস্থিতিতে সেই পদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, কিন্তু বড় ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি বা নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সাধারণত মূল কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় বা ফাইল উচ্চপর্যায়ে আটকে থাকে। পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকলে এসব সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব থেকে পূর্ণ প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগই বর্ণিত সংকটের সমাধান শুরু হোক।









