প্রতিবাদ লিপি
বিগত ০২ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে দৈনিক “কালের কণ্ঠ” পত্রিকায় আমাকে জড়িয়ে ‘সেরা ডাক্তাররা কর ফাঁকিতেও চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘কর ফাঁকিতে শীর্ষ ডাক্তাররা’ শিরোনামের একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত ভিত্তিহীন সংবাদটি আমাকে যথেষ্ট মর্মাহত করেছে।
আমি উক্ত উক্ত উদ্দেশ্যমূলক, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আমার নিম্নোক্ত বক্তব্য উপস্থাপন করছিঃ
আমি আমার সমগ্র কর্মজীবন বাংলাদেশের স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় উৎসর্গ করেছি। আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের (NINS) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে আমি নিষ্ঠা ও সততার সাথে বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছি এবং আমার হাতেই বাংলাদেশে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি সম্পূর্ণ প্রজন্ম প্রশিক্ষিত হয়েছে, যাঁরা আজ দেশজুড়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।
আমি সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন-কানুন ও আয়কর আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে একজন স্বচ্ছ ও সম্মানিত করদাতা হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি বাংলাদেশের ফিজিশিয়ানদের মধ্যে একজন অন্যতম শীর্ষ ও নিয়মিত করদাতা।
প্রত্রিকায় আমার আয়কর ও সম্পদ সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা কেবল বানোয়াট বা অসম্পূর্ণ নয়, বরং মিথ্যা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমি ২০২৩-২৪ করবর্ষে মাত্র ৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছি, যা একটি নির্জলা মিথ্যাচার। প্রকৃত সত্য এই যে, আমি বিগত ২০২৩-২৪ করবর্ষে প্রায় ৪৭,২০,০০০/- টাকা (সাতচল্লিশ লক্ষ বিশ হাজার টাকা ) আয়কর প্রদান করেছি। আমার আয়কর প্রদানের যাবতীয় প্রমাণ NBR এর নিকট রক্ষিত রয়েছে। এই তথ্যই প্রমাণ করে যে, প্রতিবেদনটিতে কাল্পনিক হিসাব এবং কর ফাঁকির অভিযোগ কতটা বানোয়াট।
আমি গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘টেস্টের কমিশন’ এবং ‘ওষুধ কোম্পানির টাকা-উপহার’ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিদ্বেষপ্রসূত ও কল্পনাপ্রসূত। আমি আমার সুদীর্ঘ ও নিষ্কলঙ্ক চিকিৎসা জীবনে কখনো কোনো ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে নগদ অর্থ বা মূল্যবান উপহার গ্রহণ করিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আমি সাড়া দিইনি । একজন চিকিৎসক হিসেবে আমাকে সার্বক্ষণিক রোগী সেবায় ও জটিল ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত থাকতে হয়। ব্যস্ততার কারণে ফোন ধরতে না পারাকে ‘কর ফাঁকি’র অভিযোগের ‘স্বীকারোক্তি’ হিসেবে চিত্রিত করা সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমার সামাজিক মর্যাদা ও কয়েক দশকের অর্জিত সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এই ভিত্তিহীন প্রতিবেদন কেবল আমাকেই নয়, বরং আমার অগণিত রোগী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে গভীরভাবে ব্যথিত ও বিভ্রান্ত করেছে।
আমি এই মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গত ৫ই নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে ‘দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় প্রতিবাদ লিপি প্রকাশিত হয়। কিন্তু এখানেও প্রতিবেদকের মন্তব্য ভিত্তিহীন।
অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ









