টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম, জিন্নাপাড়া ও বাঘের মুখসহ দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় এখনো ৩৭ জন পর্যটক আটকা রয়েছেন। সাঙ্গু নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র স্রোত থাকায় ঝুঁকি না নিয়ে তারা পানি কমার অপেক্ষা করছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লেমেন ত্রিপুরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসহ ছোট-বড় পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম, জিন্নাপাড়া ও বাঘের মুখসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় পর্যটকেরা আটকা পড়েন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট পাঠিয়ে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পর্যটকেরা ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে রাজি হননি। পানি কমলে তারা ফিরে আসবেন বলে প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
ক্লেমেন ত্রিপুরা বলেন, জিন্নাপাড়ায় ১৪ জন, বাঘের মুখ এলাকায় গাইডসহ ১৬ জন এবং নাফাখুমে গাইডবিহীন সাতজন পর্যটক অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে ৩৭ জন পর্যটক এখনো বিভিন্ন স্থানে আটকা রয়েছেন। তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলা প্রশাসন সোমবার রাত থেকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে জেলার পর্যটন খাত, বিশেষ করে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক পর্যটক বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তন না করে অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। এতে হোটেল ও রিসোর্ট মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান বলেন, আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে।









