মঙ্গলবার | ২১ জুলাই, ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বেরিবাঁধে বাঁধ ভাঙনে দিশেহারা তিস্তা পাড়ের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার

তিস্তার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় গংগাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুটি বেরিবাঁধে আকর্ষিক ভাঙনে পানি ঢুকে গেছে গ্রামে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিলীনের হুমকিতে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী গ্রামের সম্মুখে আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও বসত ভিটা বাঁচাতে মূল বাঁধের ভিতরে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে দুটি শাখা বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত শাখা বেরিবাঁধে ভাঙন দেখা যায়। ইতোমধ্যে বেরি বাঁধের দেড়শো মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি ঢুকে গেছে গ্রামে। ফসলি জমি এখন পানির নিচে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। সবকিছু পানিতে ডুবে গেছে। এই ভাঙন শুরু হওয়ায় চিন্তিত তিস্তাপারের মানুষ। সেই সাথে পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছে বিপাকে। অনেকেই বাড়িঘর নিয়ে ঠাঁই নিচ্ছেন অন্যের বাড়িতে। এছাড়াও চর বাঘধোগরা, চরকাচারী, চিলাখাল, বিনবিনিয়া, মুকুটপাড়া, প্রাইমারি স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও রাস্তাঘাট হুমকির মুখে।

মোনায়েম হোসেন জানান, নদী অঞ্চলের কারণে প্রতিবছরে শত শত মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছে। বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতি। কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ইতোমধ্যে শাখা বেড়িবাঁধ দেড়শো মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনও যদি মূল বাঁধও বিলীন হয় কিংবা মূল বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকে, তাহলে হাজার হাজার মানুষ ভিটে ছাড়া হবে। তাই এই বাঁধ রক্ষায় দুই হাজার, চার হাজার বস্তা জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ হবে না। মিনার বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার বাঁধ জিও বস্তা ফেলে নয়, প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাধ নির্মাণ জরুরি। এসময় তিনি শাখা বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে নির্মাণেরও দাবি জানান।

আব্দুল করিম বলেন, চোখের সামনের গ্রামের অনেক বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের ঘরবাড়িও যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। এই বসতভিটা বিলীন হলে আমার আর কোনো জমি থাকবে না। বসতভিটায় তিনটা ঘর আছে। এই তিনটা ঘর রক্ষার জন্য অনেকের কাছে জায়গা চেয়েছি, কেউ দিচ্ছে না। কোনো কিছু উপায় না পেলে সবশেষ নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে ঢাকা গিয়ে রিকশা চালিয়ে খেতে হবে।

মমিনুল ইসলাম বলেন, তিস্তার ভাঙনে, বাড়ি ঘর, ভিটে মাটি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ঘর বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব। তাই আমরা রিলিফ টিলিফ কিছু চাই না। আমরা স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ চাই।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বাঁধের ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে আরো লাগলে আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, বেরিবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। একই সাথে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এজে

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD