শেষ ষোলোয় নাটকীয়, রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ উপহার দিয়ে বিশ্বকাপে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, বিদায় নিয়েছে মিসর। আলবিসেলেস্তেরা অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিলেও মিসরীয়দের হৃদয়ভাঙার বাস্তবতাও বিহ্বল করেছে সমর্থকদের। এমন এক ম্যাচের পর হারের পেছনে পরোক্ষে ফিফা ও রেফারিকে দায়ী মনে করছেন মোহামেদ সালাহদের কোচ হোসাম হাসানে।
ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া মিসর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেয়েছিল আরও এক গোল। কিন্তু বিল্ড আপে ফাউলের সূত্র ধরে ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়। মিসরের কোচের অভিযোগও এই গোল বাতিলের কারণেই। তিনি জানিয়েছেন, যে কারণে তাদের গোল বাতিল হয়েছে, সেই একই কারণে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল হয়নি।
আর্জেন্টিনা প্রথম দুই গোল শোধ করার পর ম্যাচ যখন সমতায় তখন যোগ করা সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। এঞ্জোর সেই গোলের বিল্ড আপেই আর্জেন্টাইন ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করেছিলেন বলে অভিযোগ হোসামের। তিনি বলেন, ম্যাক আলিস্টার ফাউল করলেও সেটি ভিএআরে দেখা হয়নি। তাই হাসানের দাবি, মাঠের ঘটনার পাশাপাশি মাঠের বাইরের কারণও তাঁদের হারের জন্য দায়ী।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে আমরা ভালো খেলেছি। প্রায় সব দিকেই আমরা এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে প্রধান রেফারি ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। হাসান জানান, রেফারি নিয়োগ নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর দলের। মিসর কোচের দাবি, ‘ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার অতীতের কারণে আমরা রেফারি নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয়েছে আমাদেরই।’
একই ভাবে সালাহ ফাউলের শিকার হলেও মিসর পেনাল্টি পায়নি এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মান বা ফেয়ার প্লে কিছুই পাইনি। মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া ফাউলের ঘটনায় সম্ভাব্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, এমনকি ভিএআরেও দেখা হয়নি। আমাদের দ্বিতীয় গোলও অদ্ভুতভাবে বাতিল করা হয়েছে।’
মিসরের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই দেখেছে আমাদের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরা হয়েছিল। অথচ সেটিও ভিএআরে দেখা হয়নি। বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না?’ এই ম্যাচের ফল এবং যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। বলতে চাই ‘দুর্ভাগ্য’, কিন্তু বাস্তবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘যাই হোক, আমার কাজ শেষ। এই টুর্নামেন্টের আর কোনো ম্যাচ আমি দেখব না।’









