রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা উৎসাহ, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা ঘিরে সাতটি ক্যাম্পাসেই ছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি। অনেক অভিভাবকই বলছেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পাওয়ায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিই এখন তাদের সন্তানের উচ্চশিক্ষার শেষ আশ্রয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি ক্যাম্পাসে একযোগে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর অনেক আগ থেকেই কেন্দ্রের সামনে ভিড় করেন অভিভাবকরা। কেউ সন্তানকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পানির বোতল হাতে নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন। পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মুখে ছিল উৎকণ্ঠা আর প্রত্যাশার মিশ্র প্রতিফলন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিজ্ঞান ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ৪ হাজার ৭৯৫টি। এসব আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩১ হাজার ৫৫৩ জন ভর্তিচ্ছু। সে হিসেবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় সাতজন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে আসন রয়েছে ১ হাজার ৮৮৫টি। এ ইউনিটে আবেদন করেছেন ১১ হাজার ২৪৪ জন। ফলে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ছয়জন ভর্তিচ্ছু প্রতিযোগিতা করছেন।
নাটোর থেকে আসা অভিভাবক হাবিব বলেন, ‘আমার ভাতিজা অনেক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল হয়নি। এখন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিই শেষ ভরসা। ফল যা-ই হোক, ওর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হোক এটাই চাই।’
এক নারী অভিভাবক বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন অস্থির থাকবেই। সন্তান যেন ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।’
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মধ্যে নীরব উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। কেউ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্থাপিত হেল্পডেস্কে সময় কাটাচ্ছিলেন, কেউ আবার অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া, আসনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় যত ঘনিয়ে এসেছে, তাদের অপেক্ষার প্রহরও যেন তত দীর্ঘ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত সাতটি কলেজ হলো- ঢাকা কলেজ, সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি কবি নজরুল কলেজ। এসব কলেজের সমন্বয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর অধীনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এম/এমআই









