বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই, ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়

সংস্কৃতি মন্ত্রীর সাথে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত ও বেগবান করার লক্ষ্যে একটি নতুন ‘সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (Cultural Exchange Programme – CEP)’ দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী  নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। (বুধবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মিস লিস্টোয়াতীর (H.E. Ms. Listyowati) সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী  আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা, এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিজ্ ইলিয়া সুমনা।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বহুমুখী ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দুটি বন্ধুপ্রতীম দেশ, যারা ওআইসি-র সদস্য এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে পারস্পরিক ঐতিহ্যে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের এই বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহাসিক; দ্বাদশ শতাব্দীতে বিক্রমপুরের অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান সুবর্ণদ্বীপে (আজকের সুমাত্রা) গিয়ে বিদ্যাচর্চা করেছিলেন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অনন্য এক ভিত্তি।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারে ১৯৭৯ সালের ‘শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা’ চুক্তির আওতায় পূর্বের প্রথম সিইপি-র (২০০৪-২০০৭) ধারাবাহিকতা স্মরণ করা হয়। তৎকালীন চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী এটি কার্যকর থাকলেও, বর্তমান সময়ের উপযোগী করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই ২০২৫-২০২৯ মেয়াদের একটি নতুন খসড়া সিইপি তৈরি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া সরকারের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

মাননীয় মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ২০২৬ সালের মধ্যেই যেন একটি নতুন সিইপি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ বিষয়ে যেকোনো কারিগরি দিক দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।

নতুন সিইপি-র আওতায় বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সমৃদ্ধ করতে মন্ত্রী বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে: দুই দেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের বিনিময় (Reciprocal troupes); ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঐতিহ্য বাটিক এবং জামদানি শিল্পের সুরক্ষায় কারিগর ও বিশেষজ্ঞদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়; প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ কাজ (যেমন- বোরোবুদুরের সংরক্ষণ অভিজ্ঞতাকে পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় ও বাগেরহাটের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে কাজে লাগানো); দুই দেশের জাতীয় জাদুঘরের মধ্যে সরাসরি স্মারক চুক্তি ও প্রদর্শনী আয়োজন; এবং বাংলাদেশের জাতীয় লোক ও চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ। এছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্দোনেশীয় শিল্প, নৃত্য ও ভাষা শিক্ষায় বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও এতে স্থান পায়।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিস্টোয়াতী বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীর এই প্রস্তাবনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নতুন সিইপি চুক্তি বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান এবং সিইপি স্বাক্ষরের জন্য জাকার্তা সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD