শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাজধানীতে দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার: দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের ফলেই হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর পল্টন এলাকায় পা ও স্টেডিয়াম এলাকায় যুবকের কাটা দুই হাত উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রোমহষর্ক ঘটনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হত্যার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী তারই রুমমেটকে সারাদিন কাজের শেষে ঘুমানোর সময় জোরে জোরে কথা বলে বিরক্ত করায় ক্ষোভ থেকে এই ঘটনা ঘটানো হয়। এছাড়াও রুমমেটকে দিয়ে সব সময় কাজ করানোয় দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জেরে হত্যার পর সাত টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় খণ্ডিত অংশ ফেলে দেয়।

নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম।

‎রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ এসব তথ্য জানান।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, আমরা গতকাল শনিবার স্টেডিয়ামের সামনে দুই হাতের অংশ পাওয়ার পর তা ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করি। শনাক্তের পর জানা গেছে, দুই হাত ও পা উদ্ধার করা ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ। তিনি নরসিংদীর শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি নিয়ে আমরা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এরপর আমরা জানতে পারি, ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে চাকরি করত এবং হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করত শাহীন। তারা উত্তরা জসিমউদ্দীন এলাকায় দুজনে এক রুমে বসবাস করতো।

উপকমিশনার বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে নিহত ওবায়দুল্লাহর রুমমেট শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। আমরা জানতে পারি শাহীন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুলকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খন্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়।

‎এর আগে ওবায়দুল রাতে সিগারেট নিয়ে শাহীনকে বাসায় আসার জন্য বলে। কিন্তু শাহীন তাকে বলেছে তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, সে সিগারেট আনতে পারবে না। এরপর শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে ওবায়দুল আবারও তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পরে আবার তাকে নানরুটি এবং কাবাব আনার জন্য পাঠায়। কাবাব এবং নানরুটি নিয়ে আসার পর ওবায়দুল একাই খেয়ে ফেলে। এ নিয়েও শাহীনের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়।

পুলিশ জানায়, এছাড়াও রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল জোরে জোরে ফোনে কথা বলছিল। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিল তাই সে বিরক্ত হচ্ছিল। একপর্যায়ে ওবায়দুলকে ফোনে আস্তে কথা বলার জন্য অনুরোধ করে শাহীন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে শাহীনকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ওবায়দুল। ওই রাতেই ওবায়দুল গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে পেছন থেকে শাহীন তার ঘাড়ে এবং গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য ওবায়দুলের মরদেহের বিভিন্ন অংশ খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, আর কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন একটা এলাকাতে মাথাটা ফেলেছিল। মতিঝিলে কমলাপুরের ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রাম ভর্তি দেহ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানায় যে বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলেছে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। একটি অংশ আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি, আরেকটা অংশের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে।

গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। ‎শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেইটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে আরও দুইটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশনের আরেকটি পা পাওয়া যায়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD