ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে কার্যকর উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি নগর পরিচ্ছন্নতা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন হতে হবে।’
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
সভায় বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের কাছ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে তিনি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রশাসকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং সার্বিক কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর আওতায় দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনসহ সম্ভাব্য প্রজননস্থলে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সভায় ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এম/এমআই









