শুক্রবার | ৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

ফায়ার লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নয়

স্টাফ রিপোর্টার

বাধ্যতামূলক হলেও ফায়ার লাইসেন্স না থাকা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (১৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে সারাদেশে ফায়ার লাইসেন্সবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী ভবনে থাকা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রোগী ও সাধারণ জনগণের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিটকারীর আবেদন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স থাকার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের এ লাইসেন্স নেই, ফলে এগুলো উচ্চমাত্রার অগ্নিঝুঁকিতে আছে। সেখানে অসংখ্য রোগী, দর্শনার্থী, চিকিৎসক ও সেবাকর্মী চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত অবস্থান করেন, যা তাদের জীবনকে অগ্নিদুর্ঘটনার দিকে ঠেলে দেয়। তাই ফায়ার লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জনস্বার্থে রিট করা হয়।

এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিটকারী আবেদন করেন। এতে সারাদেশের ফায়ার লাইসেন্সবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী ভবনে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রোগী ও সাধারণ জনগণের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু ওই আবেদনের পরও কোন সাড়া না পেয়ে রিট করা হয়।

রিটে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে বর্তমানে মোট ১৮ হাজার ১১৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হতে ফায়ার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মাত্র ৭ হাজার ৫৬৫টি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স আছে। বাকিগুলো লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। যার একটি বড় অংশের পরিবেশ অনুপযোগী ও অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রিটে আরও বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানে জরুরি অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বা অপ্রতুল। যথাযথ প্রবেশ ও বের হওয়ার নিরাপদ পথও নেই। একই ভবনে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী ন্যূনতম নিরাপত্তা মান রক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে, এসব প্রতিষ্ঠান শুধু রোগী ও তাদের স্বজন নয়, বরং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD