শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিটিসিআইএলের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির মামলা

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১–এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলাটি দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ে নথিভুক্ত করেন উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (বিটিসিআইএল) ২০১৩ সালে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ড সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এ সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে সম্পূর্ণ রপ্তানি করার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন সম্পূর্ণ তৈরিকৃত টাইলস আমদানি করা হয়। এসব পণ্য কাঁচামাল বা আনফিনিসড টাইলস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

একটি চালান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্থগিত করে। পরে কায়িক পরীক্ষা শেষে নমুনা পাঠানো হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়–এর গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পণ্যটি আনফিনিসড নয়, বরং সম্পূর্ণ তৈরিকৃত টাইলস।

ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের ব্যাখ্যামূলক নোট, বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অগ্রিম সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় শুল্ক গোয়েন্দারা।

 

নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে রপ্তানি দেখিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রপ্তানি আয়ের তথ্যও উপস্থাপন করেছে। তবে রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, জাল বিল অব ল্যাডিংসহ বিভিন্ন নথি তৈরি করে ব্যাংকে দাখিল করা হয় এবং সেগুলো ব্যবহার করে বন্ড সুবিধা নেওয়া হয়।

 

চালান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা রাজস্ব কর্মকর্তা দিলীপ চৌধুরী ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা কোনো চালান পরীক্ষা করেননি এবং নথিতে থাকা স্বাক্ষরও তাদের নয়। এতে জালিয়াতির সন্দেহ আরও জোরদার হয়।

এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অডিট প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে আমদানিকৃত টাইলসের মজুদের গরমিল ধরা পড়ে। স্থানীয় বাজারে এসব পণ্য বিক্রির প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দুদক জানায়।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজশে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD