‘বাংলাদেশের মোট জিডিপি ৪৭৫ বিলিয়ন ডলারের। অথচ সেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অবদান আড়াই শতাংশ বা ২ দশমিক ৫ শতাংশের কম। সেখানে যদি আমরা ডিজিটাল উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে পারি তাহলে উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। দেশের মোট জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান প্রায় ৭৫ শতাংশ। সে খাতে যদি আইটি, আইসিটি অবদান বেশি রাখতে পারে তাহলে দেশের উন্নয়ন মজবুত হবে।’
আজ সোমবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে প্রযুক্তি উৎপাদন, উদ্ভাবন ও রফতানির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক হাব হয়ে উঠতে পারে। আগে ডিজিটাল পর্যায়ে ট্রান্সফরমেশনের কথা বলা হতো। এখন বাংলাদেশ উদ্ভাবনের কথা ভাবছে। অন্তবর্তী সরকার এখন আইসিটির দিকে যাচ্ছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জুলাই থেকে সব ধরনের সরকারি কেনাকাটা ই-জিপিতে হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইসিটি সচিব বলেন, নির্বাচনের আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নীতিমালা হাতে পাওয়া যাবে। ইউনেস্কোর সহযোগিতায় কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া চারটি আইন এরইমধ্যে পাশ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইসিটির ব্যাপারে সারা দেশে সাড়া জাগাতে না পারলে উন্নতির দিতে যেতে পারব না আমরা। এখানে কাজ করতে হবে। আমরা যদি বাংলাদেশের প্রত্যক শিক্ষার্থীর জন্য একটি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করতে পারি। আমরা এটা দেয়ার চেষ্টা করতে পারি। শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার দেয়া লোকসানের নয় এটি ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি, চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড” প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এক্সপোর আয়োজন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।
সংবাদ সম্মেলনে এক্সপোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিসিএস মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম, সেলিব্রেটি, হারমনি, কার্নিভাল, মিল্কিওয়ে, মিডিয়া বাজার, উইন্ডি টাউনসহ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রায় ৬,৫০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আঙ্গিক ভেদে প্রদর্শনীটি কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—লোকাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারারস, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার, বিটুবি ম্যাচমেকিং।









