আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এতগুলো সংস্কার কখনো হয়নি। আর সংস্কার হয়নি বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।
আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, ১৯৫৪-৫৫ সাল থেকে যে স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রত্যাশা ছিল, তা বর্তমান সরকার পূরণ করেছে। উচ্চ আদালতের সর্বশেষ বিচারক নিয়োগকে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা নিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় আসিফ নজরুল সতর্ক করে বলেন, জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাধীনতা সফল হয় না এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকার আন্তরিক না হলে এ সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না।
আলোচনায় সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, জুলাই চার্টার ও গণভোট নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি রয়েছে। পাশাপাশি দেশে প্রায় ৪৩ লাখ মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচার বিভাগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বিচারকের সংখ্যা ও দক্ষতা না বাড়ালে এ বিপুল মামলাজট নিরসন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত রাজনৈতিক ভূমিকার উদাহরণ টেনে বিচারকদের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।
সংলাপে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগে এখনো রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির ছাপ রয়ে গেছে। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল আইন থাকাই যথেষ্ট নয়। বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সেই আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগও জরুরি।









