শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষায় আসছে ডিজিটাল রূপান্তর

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এটি কেবল একটি ডিভাইস বিতরণ প্রকল্প নয়, বরং একে ‘শিক্ষণ-শেখার অপারেটিং সিস্টেম’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ট্যাবে পাঠ-পরিকল্পনার টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক এবং লার্নিং এভিডেন্স আপলোডের সুবিধা থাকবে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের ১২ শতাংশ ও জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী, এটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে আগামী তিন বছরের জন্য একটি বিশেষ ‘ফিসকাল আপলিফট প্ল্যান’ তৈরি করছে সরকার। বাজেটের অর্থের গুণগতমান নিশ্চিত করতে এখন থেকে ফল-ভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

 

বাজেট বাস্তবায়নে অদক্ষতার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত গেছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে অর্থছাড়ের পদ্ধতিকে ক্যালেন্ডার ও মাইলস্টোন-ভিত্তিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞানাগার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ছাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা।

 

প্রযুক্তিগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং প্রতিটি উপজেলায় ‘রোবোটিক্স ও মেকার কর্নার’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা (যেমন : আরবি, চীনা, জাপানি বা ফরাসি) পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মুখস্থ বিদ্যার বদলে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা যাচাইয়ে পরীক্ষার পদ্ধতিতে ‘আইটেম ব্যাংক’ ও ‘লার্নিং ট্রাজেক্টরি’ যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে।

তিনি বলেন, শিক্ষার বিভিন্ন ধারার মধ্যে বৈষম্য কমাতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য ‘মিনিমাম লার্নিং স্ট্যান্ডার্ড’ নির্ধারণ করবে মন্ত্রণালয়। কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আলেমদের রাষ্ট্রস্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন এবং উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য বিশেষ অনুদান (ইনোভেশন গ্র্যান্ট) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

এছাড়া জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি ‘পাবলিক ড্যাশবোর্ড’ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘রিপোর্ট কার্ড’ চালু করার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের পর একটি পূর্ণাঙ্গ ‘জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ’ ঘোষণা করা হবে।

 

এসময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD