শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে চুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও বদলি হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ বাতিলের দাবিতে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির পালন করছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে এই কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার দুপুরে বন্দর ভবন চত্বরে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর৷ সেদিন তৃতীয় দিনের মতো দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি শেষ হয়। সেই কর্মসূচি চলাকালেই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি চলায় কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগ দেয়নি৷ বন্দরের প্রধান ফটকেও কোনো ট্রাক-লরী প্রবেশ করেনি৷ এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গত শনিবার থেকে সোমবার টানা তিন দিনের কর্মবিরতি তথা ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। কোনো ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিং না হওয়ায় বিভিন্ন ইয়ার্ডে সৃষ্টি হয়েছে কনটেইনারের জট। কেবল রোজার পণ্যসহ জরুরি পণ্য নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ভাসছে ৩৫টি মাদার ভেসেল। লাইটার থেকেও পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন যেসব বেসরকারি ডিপো বা অফডক রয়েছে সেসব অফডকেও অপারেশনাল কার্যক্রমে মারাত্মক ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীদের নতুন করে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানির বেশির ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দর যে কোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে। সেটা আলোচনার ভিত্তিতে হোক কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে হোক। টানা তিন দিনের কর্মবিরতির কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা বিদেশিদের (ডিপি ওয়ার্ল্ডের) হাতে তুলে দিয়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় যখন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছে তখন তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কর্মচারীদের বদলিসহ নানা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দেশের ও দেশের অর্থনীতির প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আর এই কারণেই বন্দরের মতো প্রতিষ্ঠান গত তিন দিন ধরে অচল হয়ে থাকলেও তারা সংকট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের কারণে বদলি করা শ্রমিক কর্মচারীদের বদলি আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD