এসএম রাসেল আহমেদ: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা ও অবৈধ মাদক নির্মূলে কার্যক্রম জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের কর্মী—সিপাহী ও ওয়্যারলেস অপারেটরদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ডিএনসি সিপাহী (১৭তম গ্রেড) পদে ১০৫টি এবং ওয়্যারলেস অপারেটর (১৮তম গ্রেড) পদে ১২টি শূন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সিপাহী পদে প্রায় ২৬,০০০ জন এবং ওয়্যারলেস অপারেটর পদে প্রায় ১১,০০০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। শারীরিক ও প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষার মাধ্যমে যথাক্রমে ১,১৫৪ জন ও ১২৬ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য হন।
১৮ অক্টোবর ২০২৫ অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ১,০৮২ জন সিপাহী ও ১২৪ জন ওয়্যারলেস অপারেটর অংশ নেন। অনিয়মের কারণে ১৮ জনকে বহিষ্কার করা হয়। ডিএনসি প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল একই দিনে প্রকাশ করে প্রার্থীদের আস্থা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে।
পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। পরীক্ষার আগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৫ জন প্রার্থীকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার সরঞ্জামসহ এবং ১৩ জন প্রক্সি পরীক্ষার্থীকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়।
উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলো ছিল অত্যাধুনিক স্পাই কমিউনিকেশন ডিভাইস, যার মধ্যে ইয়ারপিস মাইক্রোফোন ও ক্রেডিট কার্ড আকৃতির জিএসএম ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত। এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষার্থী বহিরাগত সাহায্য নিতে সক্ষম হতো।
ডিএনসি জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখা হবে। ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।









