শুক্রবার | ১৯ জুন, ২০২৬ | ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঢাকায় একটি কোম্পানির মাধ্যমে প্রতিটি রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে: সড়কমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

গণপরিবহনে প্রতিটি রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নির্দিষ্ট বাস, একই রঙের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে বাস চালাতে হবে। এ বিষয়ে কাজ করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা ই-ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি, ইলেকট্রিক ভেহিকেল। এ কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মালিকেরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে বিষয়েও কাজ করছেন। আমরা চাই বাস ব্যবস্থাপনা ও চলাচলের ক্ষেত্রে একটি শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট ব্যবস্থাপনা। তৃতীয়ত হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে বাস থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকেই যাত্রী উঠবে—এই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটি নগরীতে এভাবে চলতে পারে না। ধরেন, রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে—এটাই হলো বেসিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে, একই রুটে ব্যক্তিমালিকানাধীন দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে—কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট নয়, যাত্রী যেখানে হাত তোলে সেখানেই থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।’

ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক থেকে দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি কর্পোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং আমার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা বসেছি। বসে আমরা তিন মাসের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, যেভাবেই বলেন না কেন, রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলো আছে, তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।’

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারা দিন বাস থাকে। সেখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গেছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে সেখানে রং করছে, ডেন্টিং করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার রিসেট করছে—এভাবে চলছে। এটা সেখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটি ৩০০ ফিটে, আরেকটি হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যে ডিপো করছি, সেটি টার্মিনালও হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ধীরে ধীরে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল চলে যাবে কেরাণীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক বিপরীতে। গাবতলী চলে যাবে হেমায়েতপুরে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে টার্মিনাল স্থানান্তর হবে, তবে এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে সেখানে ব্যবহার হবে। এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো আবার কখন টার্মিনালে আসবে—গাড়ি ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি সেখান থেকে ছেড়ে যাবে।’

‘গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে; বাসের ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব। দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে গাবতলীরটা হেমায়েতপুরে, মহাখালীরটা উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি সরানো হবে। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। তার আগপর্যন্ত ডিপো হবে ৩০০ ফিটে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল চলে যাবে কাঁচপুরে, ফুলবাড়িয়ারটা যাবে কেরাণীগঞ্জে।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘তাদের সময় দেওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, আমাদের বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো পর্যন্ত ভালো মানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, এমন বাস ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নেই। সায়েদাবাদ বলেন, মহাখালী বলেন, গাবতলী বলেন—যাত্রীরা সেখানে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। একটি হলো পরিবেশগত বিষয়, আরেকটি হলো সুযোগ-সুবিধার বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাস টার্মিনালগুলোতে এসব সুবিধা সিটি কর্পোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যান, অপেক্ষার জন্য বড় কক্ষ—এসব সুবিধা তৈরি করবে। তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা সেখানে যাবে। এ বিষয়ে পর্যালোচনা সভা দুই-তিন দিন আগে হয়েছে।’

‘সেখানে সময় আরও এক মাস বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছে, তারা ওই পরিবেশ ও জায়গা পেলে নিজেরাই বাস টার্মিনালে অবকাঠামো তৈরি করে নেবে। তারা এতে সম্মতি জানিয়েছে। আমি তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন করে দিতে চেয়েছে। আর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে, তারা পরিবেশ নিশ্চিত করবে—যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট থাকে, সিসি ক্যামেরা থাকে এবং মানুষ সেখানে যেতে উৎসাহিত হয়।’

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD