নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সপ্তম দিন লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান জানতে চান, দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কোনো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনটি পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধগুলেঅর বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করতে হবে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুততর করা হয়েছে, অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাতীয় ‘নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬’, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা-২০১৮’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৮২ হাজার ৬৭৮ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারসমূহে এক লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার হতে মোট ৩৮ হাজর ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। সারভাইভের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, পুলিশি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইন হতে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি’ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত উক্ত আইন করা সমীচীন ও প্রয়োজন বিধায় কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিতক্রমে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পারিবারিক সহিংসতায় সংগঠিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন রুল্পে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।









